


গাইবান্ধা-৫ আসনের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী নাহিদুজ্জামান নিশাদ। কথা হয় সত্য সততা ও সমৃদ্ধির দৈনিক সকালের বাণী’র অফিস প্রধান মো শাহাদত হোসেন মিশুকের সাথে। নাহিদুজ্জামান নিশাদ সাহেব বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র জেলা কমিটির সহ-সভাপতি।
প্রশ্ন- আপনার জম্ম কত সালে কোথায়?
উত্তর- আমার জম্ম ১৯৭৬ সালে। বগুড়া জেলায় আমার জম্ম।
প্রশ্ন- ক’জন ভাই বোন?
আমরা এক ভাই এক বোন।
প্রশ্ন- বাবা, মা ও আপনার পেশা কি?
উত্তর- আমার বাবা ব্যবসায়ী ছিলেন। মা গৃহিনী। আমিও ব্যবসায়ী।
প্রশ্ন- বাসা কোথায়?
উত্তর- আমার বাসা বগুড়ার জেলার তালুকদার পাড়ায়। ছোট থেকে বগুড়াতেই বড় হয়েছি।
প্রশ্ন- পড়াশুনা কোথায় করেন?
উত্তর- ক্যান পাবলিক স্কুলে অষ্ঠম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করেন পরে বগুড়া জেলা স্কুলে ভর্তি হন। সেখান থেকেই এসএসসি পরীক্ষা দেন। ইন্টার, ডিগ্রি ও মাস্টার্স সাংবাদিকতা বিষয়ের উপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৯৭ সালে বিবাহিত জীবনের যাত্রা শুরু হয়।
প্রশ্ন- আপনি রাজনীতিতে কবে যোগদান করে?
উত্তর- আমি রাজনীতি যোগদান করি ছাত্রদলের মাধ্যমে। বগুড়ার আমার এলাকায় ১৯৯৩ সালে ছাত্রদলের মাধ্যমে বিএনপির সাথে সম্পৃক্ততা গড়ে ওঠে।
প্রশ্ন- আপনার বাবা কোন দলের সাথে রাজনীতি করেছেন? আপনার রাজনীতির পদে আসা?
উত্তর- আমার বাবা ওয়ার্ড বিএনপরি সভাপতি ছিলেন। এরপর শহর বিএনপির সহ সভাপতি পদেও ছিলেন। ওয়ার্ড বিএনপিতে আমার বাবার সাথেই ছিলাম। বাবা মারা যাওয়ার পরে আমাদের প্রিয় নেতা জনাব তারেক রহমান আমাকে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি পদ দেন। তৎকালিন শহর বিএনপরি সভাপতি বকুল সাহেব তারেক রহমানের বরাত দিয়ে বলেন তুমি শহর বিএনপির পদ চাইলে তোমাকে দেয়া হবে। কিন্তু আমার গাইবান্ধা সাঘাটা কেন্দ্রীক রাজনীতি করার শখ ছিলো বিধায় আমি পরবর্তীতে সাঘাটায় চলে আসি।
প্রশ্ন- রাজনৈতিক ভাবে সাঘাটা ফুলছড়িতে কতো সালে আসেন?
সাঘাটা ফুলছড়িতে ২০২২ সালের উপনির্বাচনে আমি অংশগ্রহন করি। আমার টার্গেট অনুযায়ী নির্বাচনের জয় লাভের সকল প্রস্তুতি খুবই ভালো ছিলো। কিন্তু ফ্যাসিস্ট সরকারের নিল নকশায় নির্বাচনের ভোট চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমি ওই নির্বাচন বন্ধ করতে সক্ষম হই। ওই নির্বাচনে ফ্যাসিস্ট সরকারে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদ হাসান রিপনের বিপরিতে আমরা পাঁচজন প্রার্থী ছিলাম। রিপন ছাড়া বাকি চারজন প্রার্থীকে আমার এলাকায় নিয়ে যাই। সেখানেই আমরা ওই নির্বাচন প্রত্যাহার করি। এর ভিত্তিতে গোটা বিশ্বের কাছে আওয়ামীলীগের ভোটের অবস্থানটা পরিস্কার হয়।
প্রশ্ন- আসন্ন নির্বাচনে আপনি মনোনয়ন প্রত্যাশি কি?
উত্তর- আমি বিএনপির একজন কর্মী। নির্বাচনি এলাকায় সকল শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে পায়ে পা ও কাধে কাধ মিলিয়ে চলছি। এই আসনের আপামর জনতা আমাকেই চাচ্ছেন। সব মিলিয়ে আসন্ন নির্বাচনে আমি বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী।
প্রশ্ন- মনোনয়ন আপনাকে না দিলে আপনি নির্বাচনে দলের কাজ করবেন কি না??
উত্তর- এই আসনের সকল শ্রেণি পেশার মানুষ আমার সাথে আছে। তবে দলের সিদ্ধান্তে যাকে মনোনয়ন দেয়া হবে তার সাথেই ধানের শীষের কাজ করবো জয় লাভের জন্য।
প্রশ্ন- বিগত সাংসদ সদস্যদের মতো আপনি জনপ্রিয়তা কেমন?
উত্তর- এটা এলাবাসী বলতে পারবে। আমি কতোটুকু অর্জন করেছি সেটা বলতে পারবো কিন্তু আমি যখন রাস্তা দিয়ে যাই তখন একটা ছোট বাচ্চা তার মাকে বলে মা মা নিশাদ। আমি গাড়ী থেকে যখন এটুকু শুনতে পারি তখন আমি মনে করি আমার জায়গায় পৌছে গেছি। এবং অনেকটা সফল।
প্রশ্ন- ফ্যাসিস্ট সরকারের ডেপুটি স্পিকারসহ নেতাদের সাথে তোলা ছবি সোসাল মিডিয়া ও পোষ্টারের মাধ্যমে প্রচার কেন বা কি কারনে?
উত্তর- আমার কয়েকটি ছবি কুচক্রি মহল সোসাল মিডিয়া থেকে সংগ্রহ করেছে। তৎকালীন ডেপুটি স্পিকার, তৎকালীন বগুড়ার এসপি, আমার এলাকার সম্মানিত সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন রোস্তম আলী আকন্দের সাথে তোলা ছবি দিয়ে পোষ্টারিং করা। ডেপুটি স্পিকারে সাথে তোরা ছবিটি একটা ওয়াজ মাহফিলের। আমি হাজি সমিতির অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। সেখানে আমার পাশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা বসা ছিলো। আমি ওনার সাথে হ্যান্ড সেক করেছি। তার মানে এই নয় আমি জামায়াতে যোগ দিয়েছি। সাবেক এমপি ও ডেপুটি স্পিকার মহোদ্বয় যে ভাবে মানুষের মধ্যে গিয়েছেন ঠিক তেমনই মানুষের দারে দারে যেতে হয়েছে আমাকে। মানুষের আস্থা তৈরি করার জন্য মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার জন্য। এখানে অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিলো না। ওয়াজ মাহফিলে অতিথি হয়ে যাই যেখানে সেখানেই আমি সম্মানী দেই। আমরা কিন্তু সম্মানি পাই না। সুতরাং ওনি ওনার জনপ্রিয়তা তৈরি করতে গেছে আর আমি আমার জনপ্রিয়তা তৈরি করতে গেছি। সেখানে আমরা পাশাপাশি বসেছি এবং ওই সময় ছবি তোলা হয়েছে। সেই ছবি সোসাল মিডিয়াতে প্রকাশ করা হয়। ফলে কুচক্রি মহলটি এই ছবি সংগ্রহ করে। তৎকালীন বগুড়ার এসপরি সাথেও আমার একাট ছবি ছিলো। অনেক স্কুল মাস্টার আছেন বিএনপি করে ওই সময় মাথার উপর শেখ হাসিনা খালেদা জিয়ার ছবি ছিলো। ওই সময় আমার স্কুলের অনুষ্ঠান ছিলো। এসপি কে প্রধান অতিথি হিসেবে দাওয়াত দিতে গিয়েছিলাম। এসপি কে দেয়ার জন্য একটা গিফটও ছিলো আমার সাথে। সেই সময় ছবি তুলে আমি ফেসবুকে দিয়েছিলাম। রোস্তম আলী আকন্দ আমার সাথে ২০২২ সালের উপনির্বাচনে ফ্যাসিস্ট সরকারের নৌকা প্রতিকের প্রার্থী মাহমুদ হাসান রিপনের বিপক্ষে কি পরিমাণ ভূমিকা রাখছে সেটা আমি বলে বুঝাতে পারবো না। তিনি মিছিলও করেছেন আওয়ামীলীগের বিপক্ষে আওয়ামীলীগের সময়। এই রোস্তম আলীর নামে বর্তমানে ৩টি মামলা চলমান। শেখ মজিবুর রহমানের ছবি ভাঙ্গা ও আওয়ামীলীগের পার্টি অফিস ভাঙ্গাসহ তিনটি মামলা আদালতে চলমান। এই লোকটি আমার সাথে কোন এক স্টেজে ছিলো। ওই সময় ছবি তোলা হয় এবং বিভিন্ন ভাবে ভাইরাল করা হয়। রোস্তম আলী এক সময় জাসদ করতো। তিনি গতবছর ৫ আগষ্ট আসেন নি। তিনি এর আগেই এসেছেন এবং তখনি তার নামে মামলা গুলো দেয়া হয়।
আমার জনপ্রিয়তার জায়গাটা অনেকটাই আমি নকলই করছি। জনাব তারেক রহমানকে খেয়াল করছি ওনার চলাফেরা। বাংলাদেশে ওনার এতো জনপ্রিয়তা কেন। সতের বছর দেশের বাহিরে এবং ১২ হাজার কিলোমিটার দুর থেকে এই ভালোবাসা অর্জন করেছেন। ওনার যে টুকু দেখার সেই ভাবে আমি ভদ্রচিত ভাবে মানুষের সাথে চলার চেষ্টা করছি। আমাকে এতো বকাঝকা করা তারপরও আমি কোন দিন এর প্রতিবাদ করি নি। তো এটার কারণে আমার যে ভালোবাসা তৈরি হয়েছে, সেই ভালোবাসায় তারা ঈর্ষান্নিত হয়ে অন্য কোন কিছু না পেয়ে এই কয়েকটি ছবি দিয়ে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে। এই ছবিগুলোর ব্যাখ্যা আমার প্রিয় নেতা জনাব তারেক রহমানের নিকট পৌছায় দিয়েছি। ওনার সাথে আমি কথা বলতে পেরেছি। তিনি আমার সম্পর্কে যতটুকু জানার ওনি জানেন। আমি বিএনপি পরিবারের লোক। এরপরেও মনোনয়ন আমাকেই যে দিবে তা কিন্তু না। জনাব তারেক রহমান এই আসনের মনোনয়ন তাকেই দিবেন এ আসনে জনগনের সাথে যার সুসম্পর্ক আছে। রুট লেভেল পর্যন্ত জনগনের সাথেই থাকতে হবে। আমার বিপরীতে যারা দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী তারা সবাই ঢাকায় বসে আছেন।
প্রশ্ন- ভাইরালের বিষয়ে আইনগত কোন ব্যবস্থা করছেন বা করবেন কি না?
উত্তর- প্রথমে যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যকে আমার ছবি নিয়ে অপপ্রচার করেছেন সে বিষয়টি শেষ হয়ে গেছে। জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি ডা. মঈনুল হাসান সাদিক সাহেব যতেষ্ট ভদ্র ও ভালো মানুষ। তিনি কমিটি কেনা বেঁচা করে খান না। কেউ বলতে পারবেন না তিনি টাকার বিনিময়ে কাউকে কমিটিতে নিয়েছেন। বর্তমানে যে পোষ্টার তৈরি করা হয়েছে তা সভাপতিকে উদ্দেশ্য করেই করা হয়েছে। এটা আসলে আমাকে উদ্দেশ্য করে না। স্বার্থান্নষি মহল আছে যারা বর্তমান সভাপতিকে হেয় করতে চায় তার কমিটি ভাঙ্গতে চায় তারা বিগত ১৭ বছর মাঠে ছিলেন না ওনারা একটা কমিটি ভেঙ্গে আহবায়ক কমিটি চায়। এরই পেক্ষিতে তারা এই পোষ্টার এবং আমাকে নিয়ে একটা বিভ্রান্তমূলক প্রচার প্রচারনা চালায়।
প্রশ্ন- স্থায়ী ভাবে কোথায় থাকবেন???
উত্তর- বর্তমানে আমি গাইবান্ধার সাঘাটা জুমারবাড়ী ইউনিয়নের বগার ভিটা পৈত্রিক সূত্রে বাবার বাড়ি থাকি। আমার বাসা বগুড়া। আমাকে থাকতে হবে ঢাকায়, আমাকে থাকতে হবে সাঘাটায়। জনগনদের সাথে নিয়ে পথ চলা এবং তাদের কাজের জন্যই আমার আসা। এই জনগনকে নিয়ে আমাকে ঢাকা, বগুড়া, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও গাইবান্ধাতে থাকতে হবে। আসলে আমি কই থাকলা সেটা বড় বিষয় না আমার জনগনের কাজ করতে হবে।
প্রশ্ন- ফুলছড়ি থেকে জামালপুর বাহাদুরাবাদ টানেল নির্মাণে ভূমিকা?
উত্তর- নদী শাষণ আমার এই আসনে জরুরি। নদী শাষণের কাজটা আগে করবো। এরপরে গুরুত্বপূর্ণ আর একটি জিনিস হচ্ছে টানেল নির্মাণ করা। এই মুহুর্তে আমি প্রতিশ্রুতি দিতে পারছি না। আমি যেটা বলবো সেটা আবার আমার এলাকার লোক বলবে আপনি এই কথা বলেছিলেন এটা করেন নি কেন। আমার লিডার দেশে আসবে, আমি আমার লিডারকে নিয়ে আসবো সরেজমিনে জিনিসটা দেখাবো বুঝাবো। এই আসনে মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে আমার বিশ্বাস যে, যা যা পদক্ষেপ নেয়া লাগবে জনাব তারেক রহমান তা নিবেন।