


নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার ১৭ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে একটি সড়কের নির্মাণ কাজ দুই দফা সময় বর্ধিত করেও শেষ হয়নি। ফলে ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ এ গ্রামীণ উপজেলা সড়কটির প্রায় আট কিলোমিটার অংশের বর্তমানে বেহাল দশা। অসংখ্যক ছোট বড় গর্ত, খানাখন্দ ও খোয়া উঠে যাওয়া এবং সড়কের দুই পাশের মাটি ভেঙ্গে পড়ে চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে ওই সড়কটি দিয়ে নিত্যদিন চলাচল করা মানুষসহ সকল প্রকার যানবাহন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার চার নম্বর বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের পোড়ারহাট থেকে রংপুরের তারাগঞ্জ বাজার পর্যন্ত উপজেলা সড়কটি দৈর্ঘ্য ১৭ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার। গ্রামীণ এ সড়কটি সংস্কার ও মেরামতের জন্য আরসিআইপি প্রকল্পের আওতায় ২০২১-২০২২ইং অর্থবছরে দরপত্র আহবান করা হয়। প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ের এ সড়কের নির্মাণ কাজটি পান নীলফামারীর হাজী মিজানুর রহমানের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কেবিসি। গত ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সড়কটির কাজ শুরু হয়। এর পর দুই দফায় কাজের সময়সীমা বাড়ানো হয়। সর্বশেষ গেল ২০২৪ সালের মে মাসের মধ্যে কাজটি শেষ করা কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাত্র ১০কিলোমিটার কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছে। এখনও অবশিষ্ট প্রায় আট কিলোমিটার সড়কের কাজ শেষ হয়নি। দীর্ঘ সময়ে ওই সড়কটির কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় বর্তমানে অসংখ্যক ছোট বড় গর্ত, খানাখন্দ, সড়কের কাপেটিং উঠে গিয়ে ও পাড় ভেঙ্গে গিয়ে চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কিন্তু তারপরও প্রতিদিন অনেকটা নিরূপায় হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অতি ধীর গতিতে হেলে দুলে চলছে শত শত নানা রকম যানবহন। ব্যস্ততম এই সড়কের সঙ্গে উত্তর জনপদের প্রসিদ্ধ নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেড, কয়েকটি বড় গ্রাম্য হাট-বাজার ও স্কুল-কলেজের সংযোগ রয়েছে। ফলে এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন শত শত নানা পেশার মানুষ ও বিভিন্ন যানবহন চলাচল করে।
সৈয়দপুর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সড়কটি কাজ সম্পন্ন করতে না পারায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ৭২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
সৈয়দপুর উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের হামুরহাটের ওষুধ ব্যবসায়ী রবিউল আলম চৌধুরী রব্বেল। তিনি প্রায় প্রতিদিনই ওই সড়কটি দিয়ে রংপুরের তারাগঞ্জ বাজার ও সৈয়দপুর শহরের যাতায়াত করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে সড়কটির তারাগঞ্জ বাজার যাওয়ার অংশের করুণ অবস্থা। তিনি সড়কটি দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচল করতে প্রতিনিয়ত দূর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। যানবাহন ও মানুষের চলাচলে সীমাহীন কষ্টের কথা ভেবে ব্যস্ততম সড়কটির কাজ দ্রুততম সময়ে শেষ করার দাবি জানান তিনি।
কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের পলিপাড়ার আবু তালেব বলেন, বেশ কিছু দিন যাবৎ সড়কটি এ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কিন্তু কোন কাজ হচ্ছে না। ফলে আমরা সড়কটি দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে মারাত্মক বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছি।
হাজারীহাট স্কুলও কলেজের অধ্যক্ষ মো. লুৎফর রহমান চৌধুরী বলেন, এ সড়কটি একটি ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। তাঁর প্রতিষ্ঠানে অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থী সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করেন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির কিছু অংশের কাজ অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তিনি সড়কটির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে অতি তাড়াতাড়ি কাজ সমাপ্তের দাবি করেন।
সৈয়দপুর উপজেলা প্রকৌশলী এম এম আলী রেজা রাজু বলেন, পোড়ারহাট বাজার থেকে তারাগঞ্জ বাজার পর্যন্ত সড়কটির অসম্পূর্ণ অংশের কাজের প্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সেটি আরসিপি প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বরাবরে পাঠানো হয়েছে। আর অনুমোদন হলে আবারও নতুন করে দরপত্র আহবান করে সড়কটি অবশিষ্ট অংশের কাজ পুনরায় শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।