


শহিদ আবু সাঈদের প্রথম মৃত্য বার্ষিকী পালিত হচ্ছে আশার ফুলঝুড়িতে হতাশা আর ক্ষোভ নিয়ে। প্রতিশ্রুতির ফুরঝুড়িতে সাজানো আবু সাঈদকে হারানোর এক বছর আজ। গত বছরের এই দিনে আবু সাঈদ গর্বিত মায়ের সন্তান হিসেবে নিজের জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছে। বৈষম্যবিরোধী কোটা সংস্কার আন্দোলনে পুলিশের গুলির সামনে বুক চেতিয়ে দিয়ে আবু সাঈদ জাতির কাছে নিজেকে অমর করেছেন। তার এই আত্নত্যাগে গোটা দেশ জুড়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়লে তৎকালীন হাসিনা সরকারের পতন হয়।
এরপর অর্ন্তবর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করে তাদের পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তারা। আবু সাঈদের নামে বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার দাবি জানান পরিবারের সদস্যরা। সরকারের পক্ষ থেকে এ সব করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পেয়ে যান আবু সাঈদের পরিবার। এমনকি শহিদ আবু সাঈদ দিবস ঘোষণা করে তা বাতিল করায় আশাহত হয়েছেন আবু সাঈদের মা-বাবাসহ ভাইয়েরা। আজ আবু সাঈদকে হারানোর এক বছরপূর্ণ হলেও কোন একটি প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন করে নাই। এজন্য হতাশা প্রকাশ করেছে আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরা।
কোন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, সবাই খালি(শুধু) কথা বলে গেছে। যে গুলো করতে চাছিল সেগুলোর একটাও করে নাই। আমাদের বাড়ি করে দেওয়ার কথা বললেও কেউ দেয় নাই। কিছুই হয় নাই এ পর্যন্ত। আবু সাঈদের নামে মেডিকোল, মাদ্রাসা, কলেজ কিছুই হয় নাই । এক বছর হয়ে গেল সবাই শুধু হবি হবি করে কিন্তু কিছুই হয় নাই। কখন যে সরকারে করে দিবি ।
আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান বলেন, আমরা শহিদ আবু সাঈদ ফাউন্ডেশন থেকে ৫টি মাদ্রাসার এতিমদের এক সন্ধ্যা খাওয়াবো এবং ১০ টি মসজিদে তবারক পৌছে দেব। আবু সাঈদের প্রথম মৃত্য বার্ষিকীতে সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের বাড়িতে কোন আয়োজন করা হয় নাই।
তিনি আরও বলেন, আমরা কখনো চাইনি বা বলি নাই যে আমাদের দিবস দিতে হবে বা এই বাংলাদেশে করতে হবে। কিন্তু যখন সরকার শহিদ আবু সাঈদ দিবস দিলো তখন আমরা খুশি হয়েছিলাম তথা রংপুরবাসী খুশি। এটাকে বাতিল করা খুবই দুঃখজনক। এটা আমার কাছে এমন মনে হচ্ছে যে, সামনে খাবার দিয়ে খাবার কেড়ে নেওয়ার মতো। সরকারের দেওয়া কোন প্রতিশ্রুতি এ পর্যন্ত একটাও বাস্তবায়ন পাই নাই।