
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বড়বিল ইউনিয়নের বাগপুর চোত্তাপাড়া শ্রী শ্রী ভক্তি শ্রীরুপ ভগবত গৌড়ীয় মঠ আয়োজিত শ্রী শ্রী গো -গোবর্ধন ও অন্নকূট মহোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২২ অক্টোবর দিনব্যাপী মহোৎসব অনুষ্ঠানে শ্রী ব্রজেন্দ্র নাথ সরকারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত রংপুর -১ আসনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী রায়হান সিরাজী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর সদস্য ও গণঅধিকার পরিষদের রংপুর ১ আসনের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী হানিফুর রহমান সজীব।
সম্মানীত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গঙ্গাচড়া উপজেলা পূঁজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ও গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব শ্রী কমলাকান্ত রায়। আরো উপস্থিত ছিলেন মাও. মো. নায়েবুজ্জামান, মো. সায়েদুন্নবী কাইয়ুম, মো. লিটন মিয়া, শ্রী চন্দন চন্দ্র রায়, মো. মারুফ হোসেন প্রমূখ। অনুষ্ঠানে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেন শ্রী ননী গোপাল মহন্ত, উক্ত মহোৎসব অনুষ্ঠানে প্রতিটি পর্বে মঙ্গল আরতি,শৃঙ্গার আরাভ, মধ্যাহ্ন ভোগরতি, মহাপ্রসাদ আস্বাদন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, দামোদর আরতি, নামসংকীর্ওন ও অন্নপ্রসাদ আস্বাদন পালিত হয়। হিন্দুধর্মে অনেকক্ষেত্রেই মিলেমিশে যায় শাক্ত ও বৈষ্ণব উৎসব শক্তি। আরাধনার অন্যতম উৎসব হল- কালীপুজা। তার ঠিক পরেই বৈষ্ণবদের গুরুত্বপূর্ণ গোবর্ধন উৎসব এবং অন্নকূট বহু স্থানেই দুটি পার্বণ একসঙ্গে পালিত হয় কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের প্রথম দিনে গোবর্ধন উৎসব ।
ভাগবৎ পুরাণ অনুযায়ী ওই দিন শ্রীকৃষ্ণ প্রবল বৃষ্টি থেকে বৃন্দাবন শহরকে রক্ষা করতে নিজের কনিষ্ঠ আঙুলে তুলে ধরেছিলেন গোবর্ধন পর্বতকে। অর্থাৎ এভাবে ধরিত্রীকে রক্ষা করায়, বিধাতা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ উৎসর্গ করেন অন্নকূট। অন্ন অর্থ ভাত আর কূট অর্থ পাহাড় অর্থাৎ ভাতের পাহাড়। আর তার সাথে যোগকরা হয় অন্যান্য নিরামিষ পদ।বৈষ্ণবদের মধ্যে বল্লভ সম্প্রদায়‚ চৈতন্যের গৌড়ীয় সম্প্রদায় এবং স্বামীনারায়ণ সম্প্রদায় এই গোবর্ধন ও অন্নকূট উৎসব পালন করে।
ভাগবৎ পুরাণ বলে‚ ইন্দ্র-কৃষ্ণ দ্বৈরথেই জন্ম গোবর্ধন উৎসবের ব্রজভূমিতে প্রচলিত ছিল হেমন্ত উৎসব ব্রজবাসীরা গোবর্ধন পর্বতে গিয়ে ইন্দ্রকে পুজো করত দূরবর্তী স্বর্গের দেবতাকে পুজো না করে বৃন্দাবনবাসী যেন কাছের দেবতাকে পুজো করেন চেয়েছিলেন কৃষ্ণ প্রবর্তন করলেন গিরিযজ্ঞ নিজেই পর্বত অবতারে শ্রদ্ধার্ঘ্য গ্রহণ করতেন । বিভিন্ন মন্দিরে অধিষ্ঠিত দেব বিগ্রহের সামনেও উৎসর্গ করা হয় অন্নকূট ভোরবেলা শুরু করে দ্বিপ্রহরের মধ্যে সমাপন হয় ভোগ প্রস্তুত শুভ আরভ শ্রী শ্রী অন্নকূট মহোৎসব ও গো গোবর্ধন পূঁজা মানবের মঙ্গল কামনা। ভক্তদের পূঁজা পার্বণে মাধ্যমে মহোৎসব হয়ে উঠে ধর্মপ্রাণ ভক্তদের মিলন মেলা।
Related