


রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার মর্নেয়া ইউনিয়নে প্রকাশ্যে ফেনসিডিল বিক্রি এখন প্রকাশ্যের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিনের আলো কিংবা রাতের আঁধারে, দুই সময়েই চলছে মাদক বিক্রি ও সেবনের উৎসব। অথচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেখা যাচ্ছে রহস্যজনক নীরবতা। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কথিত রাজনৈতিক আশ্রয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছে এই মাদক ব্যবসা। ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান,যেমন, তালপট্টি বাজার, নরসিং, আলমার বাজার, আলালচর, জমচওড়া এলাকা, বিদ্যালয়ের পাশ ও খোলা মাঠসহ ১৫ টি পয়েন্টে প্রায় প্রতিদিন দিনে ও রাতে মাদক কারবারিদের সক্রিয় আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নে সক্রিয় চিহ্নিত মাদকচক্রের সদস্যরা হলো, এরসাদুল, ছোট হামিদুল, ওমেদুল , মোকাদ্দেস মিতা, ওবাইদুল ইসলাম এবং নুরজাম্মান।তাদের বিরুদ্ধে গাঁজা, ইয়াবা ও ফেনসিডিল বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। স্থানীয়রা জানান, প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এই ব্যবসা অব্যাহত থাকায় মাদকের বিস্তার রোধ করা যাচ্ছে না। এর ফলে তরুণ সমাজ বিপথগামী হচ্ছে, পারিবারিক সম্পর্ক ভেঙে পড়ছে, এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে।প্রশাসনকে তথ্য দেওয়ার পরও অনেক সময় কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো অভিযোগকারীদের সন্দেহের চোখে দেখা হয়, ফলে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।
একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাসিন্দা বলেন, আমরা বহুবার স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছি। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। বরং প্রতিবাদকারীরাই হয়রানির শিকার হন। আরেকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েরা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। স্কুলপড়ুয়া ছাত্ররাও মাদকের ছোবলে ধীরে ধীরে জড়িয়ে পড়ছে। মর্নেয়া ইউনিয়ন প্রশাসক ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, আমরা নিয়মিতভাবে স্থানীয়ভাবে মাদকবিরোধী সচেতনতা কার্যক্রম চালাচ্ছি তবে কঠোর প্রশাসনিক অভিযান ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল এমরান সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
গঙ্গাচড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন,মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। যারা সমাজে এই ভয়াবহ মাদক ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রংপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিপ্লব কুমার মোদক বলেন, আমরা গতমাসে অভিযান পরিচালনা করে কিছু গ্রেফতার করেছি এখন তারা হাজতে আছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সমাজসচেতন মানুষজন প্রশাসনের দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এখনই কার্যকর অভিযান না হলে মর্নেয়া ইউনিয়ন পুরোপুরি মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে।