


রংপুরের পীরগঞ্জে রাস্তার দু’ধারে তেল জাতীয় ফসল তিল চাষের প্রবনতা বাড়ছে। এতে লাভবান হচ্ছেন, কৃষকসহ বেকার যুবকরা। ২/৩ বছর আগে মাত্র ১ থেকে ২ টি রাস্তার সামন্য স্থানে এ তিলচাষ চোখে পড়ছিল। হালে সেখানে বলা যায় উপজেলার বেশিরভাগ রাস্তার ধারে কোথাও না কোথাও এ তিল চাষ করেছে। এমন এক চাষী আকবর আলী জানান, রাস্তার ধারের জমিতে চাষাবাদকৃত ফসল গরু-ছাগল খেয়ে নষ্ট করতো। তাই রাস্তার ধারে বেড়া বা ঘিরা না দিয়ে যে গাছ গরু-ছাগল খায়না সেই ফসল হলো তিল। দু’বছর থেকে আমার জমির সাথে রাস্তার ধারে তিল চাষ করে দুদিক দিয়ে লাভবান হচ্ছি।
রাস্তার ধারে আরও বেশী করে তিল চাষ করার ইচ্ছে আছে তাঁর। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারে পীরগঞ্জে রাস্তার ধারে তিল চাষ বেড়েছে। পীরগঞ্জ-খালাশপীর রাস্তার বাহাদুরপুর থেকে বাবনপুর পর্যন্ত খন্ড খন্ড তিল চাষ, খালাশপীর-মদনখালী, খালাশপীর-ভেন্ডাবাড়ী, খালাশপীর-চতরা , খালশপীর-টুকুরিয়া, লালদীঘি-কুমেদপুর, কুমেদপুর-খয়েরবাড়ী রাস্তায় তিল চাষ নজর কাড়ে পথচারীদের।
এক বর্ষজীবী উদ্ভিদ তিলের বৈজ্ঞানিক নাম হলো সেছামাম ইন্ডিকাম। এটি বিশ্বের গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলে ব্যাপকভাবে চাষ করা হয় এবং এর বীজ থেকে তেল তৈরি হয়। বাংলাদেশ, চিন আমেরিকা জাপানসহ দুনিয়ার অন্যান্যদেশেও তিল গাছ জন্মায়। তিলের গাছ ৬ ফিট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। সারা দুনিযার মধ্যে তিল ভারতে সব চেয়ে বেশী হয়। বছরে দুবার অর্থাৎ কার্তিক ও ফালগুন মাসে তিলের চাষ হয়ে থাকে। কম খরচে খুব সহজেই যেকোন পরিত্যক্ত জমিতে তিলের চাষ করা যায়।
তিল বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রধান তৈলবীজ ফসল। তেলের জন্যই প্রধানত তিলের চাষ হয়।পাতার গোড়ায় সাদা বা হালকা নীল/ গোলাপি ফুল হয়। একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সাথে কথা বলে জানা গেছে,কাঁচা তিল খেলে হাড় শক্তিশালী হয়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং হজমশক্তি উন্নত হয়। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফাইবার, স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন, বি ভিটামিন এবং খনিজ সমৃদ্ধ একটি পুষ্টিকর খাবার।
পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন সরকার জানান; রাস্তার ধারে পতিত জমিতে তিল চাষ প্রশংসার দাবীদার। উপজেলার বিভিন্ন রাস্তাসংলগ্ন গ্রামের বেকার যুবকরা দলবদ্ধ হয়ে গ্রুপ ভিত্তিক এই তিল চাষ করলে বছরে দুবার বাড়তি ইনকাম করতে পারে। কষি বিভাগ এই দলবদ্ধভাবে তিল চাষে প্রযুক্তি ও উপকরণ সহায়তা দিবে।