জাতীয় মেধাতালিকায় ৪১১তম স্থান অর্জনকারী রেহানা ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেলেও প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে দৈনিক সকালের বাণীসহ অন্যান্য পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে বিষয়টি বিভিন্ন মহলের দৃষ্টি গোচর হয়।
সংবাদ প্রকাশের পর স্টেডফাস্টের সহায়তা নিয়ে রেজাউল করিম রাজীর নেতৃত্বে স্টেডফাস্টের অন্তর্ভুক্ত মানবিক সংগঠন টিম জিয়নের পক্ষ থেকে রেহানার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে ভর্তি সংক্রান্ত প্রাথমিক ব্যয় মেটাতে ৫০০০০ টাকা নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এর ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রেহানার ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পর্ণ করা সম্ভব হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
রেহানার বাবা রিকশাচালক মো. রশিদুল ইসলাম বলেন, “মেয়ের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন প্রায় ভেঙেই যাচ্ছিল। পত্রিকায় খবর না হলে হয়তো কেউ জানতেই পারত না। আল্লাহর রহমতে এবং হৃদয়বান মানুষের সহায়তায় আজ সে নতুন করে আশার আলো দেখছে।”
রেহানা আক্তার বলেন, “আমি কখনো ভাবিনি এত মানুষ আমার পাশে দাঁড়াবেন। সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা, যারা আমার কথা তুলে ধরেছেন। আমি পড়াশোনা শেষ করে মানুষের সেবা করতে চাই।” টিম জিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু রেহানা নয়—অর্থাভাবে পিছিয়ে পড়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে ভবিষ্যতেও সংগঠনটি থাকবে। প্রয়োজনে রেহানার শিক্ষাজীবনের পরবর্তী ধাপেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়ভাবে রেহানার সাফল্য ও ভর্তি নিশ্চিত হওয়ায় আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বড়াইবাড়ী এলাকার সচেতন নাগরিক জিয়া সাইবার ফোর্সের রংপুর জেলা সভাপতি জহুরুল হক বুলবুল বলেন,রেহানার ডা: হওয়ার স্বপ্ন পূরণে স্টেডফাস্ট পরিবারসহ রেহানার পাশে দাঁড়ানো সকলকে ধন্যবাদ।
এ বিষয়ে স্টেডফাস্ট কুরিয়ার লি: এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এম রিদওয়ানুল বারী জিয়ন বলেন,শুধু রেহানার জন্যই নয়, আল্লাহ যতদিন আমাকে মেধাবী ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ ও সামর্থ্য দান করবেন ততদিন পাশে দাঁড়াব ইনশাআল্লাহ।
এলাকাবাসী বিষয়টিকে গণমাধ্যম ও মানবিক উদ্যোগের সফল সমন্বয়ের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।