
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের দক্ষিণ পানাপুকুর এলাকায় বাচ্চা মিয়াসহ চারজন বিএডিসি অনুমোদিত সেচ এরিয়ায় আইন বহির্ভূত বরেন্দ্র পাইপ লাইন সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সেচ কমিটির সভাপতি বরাবর অভিযোগ দাখিল করেছে ওই এলাকার কৃষকরা।
অভিযোগ দাখিলের প্রেক্ষিতে কয়েক দফায় তদন্ত সাপেক্ষে সম্প্রসারিত নতুন বিএমডিএ -এর ( বরেন্দ্র) আউটলেট বন্ধের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেই নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত ১৬ /০১/২৬ ইং বিএডিসি ও বিএমডিএ – এর দায়িত্বরত উভয় পক্ষকে ডেকে আলোচনা সাপেক্ষে নতুন আউটলেট বন্ধের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেই সিদ্ধান্তকে কার্যকর করতে সেচ চাহিদা সম্পুর্ন কৃষকদের ন্যায্য মূল্যে সেচ দিতে বিএডিসি সেচের মালিক বাচ্চা মিয়ার পক্ষ থেকে লিখিত অঙ্গিকার নামাও গ্রহণ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
কিন্তু নীতিগত সেই সিদ্ধান্ত নস্যাতের উদ্দেশ্যে বিএমডিএ – এর কৃত্রিম চাহিদা সম্পুর্ন কৃষকদের নামে মাত্র একটি তালিকা প্রণয়ন করে। গত ১৮/০১/২৬ নাম সর্বস্ব সেই তালিকা সংযুক্তি দিয়ে উপজেলা সেচ কমিটির কার্যকরী সিদ্ধান্ত বাঞ্চালের উদ্দেশ্যে পূণরায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
যার প্রেক্ষিতে অভিযোগকারিগণ প্রকৃত কৃষক কিনা তা জানতেই উপজেলা কৃষি অফিসকে তদন্তভার দেয়া হলে বড়বিল ইউনিয়নের দায়িত্বরত উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তা জীবন নাহার একটি তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করেন। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখিত বিএমডিএ কতৃক স্থাপিত আউটলেট সংল্গ ২২ জন প্রকৃত কৃষকের সেচ চাহিদা দেখানো হলেও বাস্তবতায় তার অস্তিত্ব নেই । তদন্ত প্রতিবেদনে পানির অভাবে ফসল নষ্টের বিষয়টি উপস্থাপন করলেও, বাস্তবতায় কোন ফসল নষ্ট হওয়ার কোন আলামত খুঁজে পাওয়া যায় নি এবং বিএডিসি সেচ এরিয়ায় চাহিদা সম্পুর্ন ২২ জন কৃষককেও খুঁজেও পাওয়া যায় নি।
বিএডিসি সেচ এরিয়ার কৃষক মোজাম্মেল হোসেন বলেন, আমি সরকারি সেচ মূল্যে পানি চাই। বাচ্চা মিয়া সেই মূল্যে পানি দিলে আমার আপত্তি নাই। একই এলাকার কৃষক বেলাল হোসেন বলেন, আমরা শুরু থেকেই বাচ্চা মিয়ার সেচের পানি নেই। আমার বরেন্দ্র পাইপ লাইনের কোন দরকার নাই।
বিএডিসি সেচ মালিক সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের এইকনা দোলার মধ্যে আমাদের ৪টা সেচ মটার রয়েছে। কেন বরেন্দ্র নিষেধ করা সত্বেও পাইপ লাইন ঠুকাইল আমার জানা নাই। ঘাঘটটারী এলাকার কৃষক ফিরোজ বলেন, আমি দীর্ঘদিন যাবৎ বাচ্চা মিয়ার সেচ থেকে পানি নেই আমার কোন সমস্যা নেই।
কৃষক মুসকুর বলেন, শুধু ৪ জন কৃষকের জন্য বরেন্দ্রের পাইপ রাস্তা পার করে আনছে। কাজ বন্ধ করে দিলেও তারা জোর করেই রাতারাতি পাইপ বসায়। এটার কোন দরকার নাই।
বিএডিসি সেচ মালিক বাচ্চা মিয়া বলেন, আমি আমার ক্যাচমেন্ট এরিয়ার সব কৃষকে পানি দিতে রাজি আছি। কেউ পানি না নিলে, আমি তো জোর করে দিতে পারি না। এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তার সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হুসেন বলেন, আমাদেরকে তদন্তভার দেয়া হয়েছে অভিযোগকারিরা কৃষক কিনা? উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তা যে তদন্ত প্রতিবেদন আমাকে জমা দিয়েছে, আমি ইউএনও মহোদয়কে প্রতিবেদন সংযুক্তি দিয়ে জমা দিয়েছি।
এলাকার কৃষকরা মনে করছেন, ঠাকুড়াদহ এলাকার চলমান বিএডিসি ও বিএমডিএ সেচ কেন্দ্রীক জটিলতার বিষয়ে তদন্তে গড়িমসির বিষয়টি উদ্বেগজনক। প্রয়োজন উচ্চতর তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি।
Related