
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর পাইকান এলাকায় আদালতের স্থিতিবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ অমান্য করে বড়াইবাড়ী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণ কাজ চলমান রাখার অভিযোগ উঠেছে।
সহকারী জজ মোছাঃ স্বপ্না মুস্তারিন ২২৫/২৫ নম্বর দেওয়ানি মামলায় ১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে স্থিতিবস্থার আদেশ প্রদান করেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত নালিশি জমির দখল, আকার ও ব্যবহার কোনোভাবেই পরিবর্তন করা যাবে না। বিদ্যালয় কেবল তার নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম চালাতে পারবে; এর বাইরে কোনো নির্মাণ বা পরিবর্তন কাজ করা নিষিদ্ধ। মামলার প্রক্রিয়া অনুসারে, আদালত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে বিবাদী পক্ষকে ১৫ দিনের মধ্যে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কেন দেওয়া যাবে না তা জানতে নোটিশ প্রদান করেন। পরে বাদীর প্রার্থনা এবং বিবাদী পক্ষের জবাব পর্যালোচনা করে ১ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং স্থিতিবস্থার আদেশ দেন।
তবুও, বাদী আবু মোঃ জুলফিকার অভিযোগ করেছেন, আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ভবন নির্মাণ চলমান ছিল। পরে বিষয়টি সংবাদ পত্রে প্রকাশিত হলে নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়। তবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলেও কোর্টের অনুমতি ছাড়াই ১ ফেব্রুয়ারী থেকে দ্বিতীয়বার নির্মাণ কাজ চালু করার মাধ্যমে পূণরায় কোর্ট অবমাননা করা হলো। তিনি আরো বলেন, আদালতের আদেশ স্বেচ্ছায় অমান্য করা হয়েছে। আমি বিজ্ঞ আদালতের কাছে সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
নির্মাণ কাজ পরিচালনাকারী ঠিকাদারের সাথে মুটোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনে পাওয়া যায় নাই। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর জামানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি ঠিকাদারকে বলেছি যেহেতু কোর্টের নিষেধাজ্ঞা আছে আপনারা কাজ বন্ধ রাখেন। কিন্তু ঠিকাদার আমাকে না জানিয়ে নিজেই কাজ করছে। কেন ঠিকাদার কোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নির্মাণ কাজ করছে, সেই জবাব ঠিকাদারই দিতে পারবেন।
রংপুর শিক্ষা নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী ইকবালকে মুটোফোনে না পেয়ে উপ প্রকৌশলী (গঙ্গাচড়া) আরিফ হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এবিষয়ে আমার কোন বক্তব্য নাই । এবিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবু সাঈদ মোঃ আরিফ মাহফুজ বলেন, আমরা এখনো বিষয়টা জানি না। বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলব।
তবে মামলার বাদী আবু মো: জুলফিকার ১৫/০৯/২৫ তারিখে ২৪০৬২/১৬০৮৯ নং আবেদনমূলে দলিল যাচাই বাছাইয়ের উদ্দেশ্যে কিশোরগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রি অফিসে আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে কিশোরগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দেয়া তথ্য মতে, ১৯৭২ সালের ৪১৯৫১ নং দলিল মুলে ২০ শতক জমির দলিলটি কিশোরগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রি অফিসে হলেও, তল্লাশ অন্তে কিশোরগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রি অফিসে উক্ত দলিলটির কোন হদিস পাওয়া যায় নাই মর্মে নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রি অফিস তথ্য প্রদান করেছেন।
Related