


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রব্বানী দাঁড়ি পাল্লা প্রতীকে ভোটযুদ্ধে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। উত্তরের গুরুত্বপূর্ণ এই উপজেলা জামায়াতের ঘাটি হিসেবে পরিচিত। এবার ব্যালোটের মাধ্যমে তা প্রমাণ করলেন এই আসনের ভোটররা। এই জয়ের মধ্যে দিয়ে নতুন এক মিঠাপুকুরের স্বপ্ন দেখছেন এখানকার জনসাধারণ।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই এই আসনে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
রাত পৌনে বারোটার দিকে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. পারভেজ উপজেলা কন্ট্রোলরুম থেকে ফলাফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফলাফলে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী রংপুর জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক গোলাম রব্বানীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। মিঠাপুকুর কন্ট্রোলরুম থেকে রাত পৌনে বারোটার দিকে প্রাপ্ত ফলাফল অনুয়ায়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দাঁড়ি পাল্লা প্রতীক নিয়ে অধ্যাপক গোলাম রব্বানী ১ লাখ ৭৪ হাজার ১৪৯ ভোট পেয়ে বিজয় অর্জন করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অধ্যাপক গোলাম রব্বানী “ধানের শীষ” প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ২৬৩ ভোট, তৃতীয় স্থানে রয়েছে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এস এম ফখর উজ জামান জাহাঙ্গীর লাঙ্গল প্রতীকে ১৬ হাজার ৩০৭ ভোট পেয়েছেন তিনি। এছাড়াও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা ২ হাজার ৩৭২ ভোট, এবি পার্টি ঈগল প্রতীক ৩৫০ ভোট পেয়েছেন।
এই আসনে হ্যা ভোট পড়েছে ২ লাখ ১০ হাজর ৮৫৫টি এবং না ভোট পড়েছে ৮১ হাজার ২৩৯টি। এবার মিঠাপুকুরে নারী ভোটারদের ব্যপক উপস্থিতি দেখা গেছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মতে এবার এই আসনে ভোটের মাঠে তারুণ এবং নারী ভোটাররা ছিলেন ভোটের ছক বদলে দেওয়ার কারিগর। এছাড়াও কৃষক থেকে দিনমজুর সর্বস্তরের জনসাধারণ দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গণজোয়ার দেখা গেছে। ফলাফল শেষে জনগণের রায় ব্যালোটের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে নির্বাচিত প্রার্থীর জনপ্রিয়তা।
রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) সংসদীয় আসনটি ১৭ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে ১৫২টি ভোটকেন্দ্র ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মোট ভোটার ছিল ৪ লাখ ৬১ হাজার ১৮১ জন। এরমধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২০ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩২ হাজার ৪৬২জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৪ জন।