শনিবার (১৮ এপ্রিল) গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবারের মাঝে শুকনা খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়। প্রতিটি প্যাকেটে ১০ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১ কেজি লবণ, ১ কেজি চিনি, ১ লিটার সয়াবিন তেল, ১০০ গ্রাম মরিচের গুঁড়া, ২০০ গ্রাম হলুদের গুঁড়া এবং ১০০ গ্রাম ধনিয়া গুঁড়া।
গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সজিবুল করীম ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে এসব সহায়তা বিতরণ করেন। তিনি বলেন, “ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। প্রাথমিকভাবে ৩৫টি পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। তবে পর্যাপ্ত ঢেউটিন বর্তমানে মজুদ নেই। ঢেউটিন বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র (ডিও লেটার) পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে দ্রুত বিতরণ করা হবে।”
এর আগে গত শুক্রবার গভীর রাতে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড় ও তীব্র শিলাবৃষ্টিতে ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এতে শতাধিক পরিবারের বসতঘরের টিনের চাল উড়ে যায় এবং অনেক ঘর শিলাবৃষ্টির আঘাতে ঝাঁঝরা হয়ে পড়ে। অনেক ঘর আংশিক ও সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়।
নিরূপায় হয়ে রাতের মধ্যেই অসংখ্য পরিবার ঘর ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নেয় । বর্তমানে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খাদ্য সহায়তা কিছুটা স্বস্তি দিলেও তাদের সবচেয়ে বড় সংকট এখন বসবাসের উপযোগী ঘর। এজন্য প্রয়োজন সরকারি ঢেউটিন সহায়তা প্রয়োজন।
ক্ষতিগ্রস্ত সুজা মিয়া বলেন, “ শুকনা খাবার পাইনো, হামাক সরকারি টিন দ্যান, ঘর মেরামত করমো।
রফিকুল ইসলাম বলেন, “ঘরের টিনগুলা শিলা বৃষ্টিতে ঝেঝঝেরা হইছে । বৃষ্টি আসলে ঘরোত থাইকপ্যার পাই না। হামরা সরকারি সাহায্য চাই, না হইলে কুলি উঠপ্যার পাবার ন্যাই।
সুমন মিয়া বলেন, “এক রাতের ঝড়ে সউগ শ্যাষ হয়া গেল । পরিবার নিয়্যা এলা খোলা আকাশের নিচে কোন রকমে রাইত কাটাই চোল । হামার একটাই দাবি, তারাতাড়ি ঢেউটিন দ্যান ঘর ঠিকঠাক করমো ।
আসেদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ছাওয়া পোওয়া নিয়া খুব কষ্টে আছি। রাইতোত বৃষ্টি আসলে মাথা নুকপ্যার জায়গা নাই । পলিথিন ছাউনি দিয়া কোন রকমে থাকি চোল।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য রেজাউল হক বুলেট জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে এবং উপজেলা প্রশাসন ঢেউটিন সহায়তার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, “ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। জরুরি খাদ্য সহায়তা ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে। তবে যাদের ঘরবাড়ি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের জন্য ঢেউটিনসহ প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
স্থানীয়রা দ্রুত ঢেউটিন ও পর্যাপ্ত পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় এসব পরিবার দীর্ঘদিন চরম দুর্ভোগে থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।