


শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বিসিকে শিল্প প্লট করার একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। বিসিকের জন্য যে জমিগুলো নেই সে সব পরিত্যক্ত, অকৃষি ও এক ফসলি জমি। কৃষি জমিকে রক্ষা করেই তো শিল্পের প্রসার ঘটাতে হবে। আমরা বিসিকে শিল্প প্লট তৈরি করি তাঁর একটি সংগঠিত কাঠামো থাকে। সেখানে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বিষয়ও রয়েছে।
মন্ত্রী গতকাল (৯ মে) শনিবার বিকেলে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরী পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এ সব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, রংপুর বিভাগেই কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের। ফলে এ অঞ্চলে বিসিক শিল্পনগরীগুলোতে ও এর বাইরে বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট শিল্প কলকারখানা উঠেছে। শিল্প বিকাশে কম লাভে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। আরও ৪৪ একর জমির ওপর বিসিক সম্প্রসারণ করা হবে। এতে প্রায় ২০০ শিল্প হবে।
উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে সরকার নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত বন্ধ কল কারখানা চালু করা হবে। সরকারের প্রথম কাজ হচ্চে বেকার সমস্যা সমাধান করা। এ লক্ষ্যে ব্যাপক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামি ৫ বছরে ২ কোটি লোকের কর্মসংস্থান করা হবে। শিল্পের বিকাশ ঘটলে অর্থনীতির চাকা সচল থাকে।
সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরী পরিদর্শনকালে নীলফামারী -৪ সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম, নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান, সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একেএম ওহিদুন্নবী, সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাব্বির হোসেন, বিসিক জেলা কার্যালয়েল উপ-ব্যবস্থাপক মো. নুরেল হকসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও বিসিক শিল্প মালিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে মন্ত্রী বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা ও শিল্প, কল-কারাখানা মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। এতে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিসিক শিল্প মালিক সমিতি সভাপতি আবুল কালাম মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম পোদ্দার এগ্রো ইন্ডাস্ট্রি এর ম্যনেজিং ডাইরেক্টর রাজ কুমার পোদ্দার, বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতি সৈয়দপুর সাংগঠনিক শাখার সভাপতি এরশাদ হোসেন পাপ্পু প্রমুখ। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শ্যামলী সিটি গ্রæপের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর সুশীল কুমার দাস, সারফারাজ ফুড ইন্ডাস্ট্রির ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মো. মোস্তফাসহ অন্যান্যরা।
এর আগে মন্ত্রী সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীতে এসে পৌঁছলে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে মন্ত্রী সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরী সম্প্রসারণের জন্য জমি ও বিসিকে অবস্থিত সেলিম এগ্রো ইন্ডাষ্টি ও সারফারাজ ফুড ইন্ডাষ্টি পরিদর্শন করেন।
শেষে মন্ত্রী গতকাল শনিবার থেকে শুরু হওয়া আঞ্চলিক লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য ও প্রযুক্তি মেলার স্টলগুলো পরিদর্শন করেন।