
উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট এলাকায় রত্নাই নদীর ওপর নির্মাণাধীন বহুল প্রতীক্ষিত রত্নাই সেতুর কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আসন্ন কোরবানি ঈদের আগেই সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এতে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের চার উপজেলার লাখো মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সেতুটি চালু হলে ফুলবাড়ী ধরলা সেতুর পূর্ণ সুফল মিলবে। পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনে আসবে নতুন গতি। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ইতোমধ্যেই স্বস্তি ও আনন্দের আমেজ দেখা দিয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১৩০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ দশমিক ৫ মিটার প্রস্থের সেতুটির নির্মাণকাজ করছে ‘প্রজেন্ট ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড কংক্রিট অ্যান্ড স্টিল টেকনোলজি’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
২০২২ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে মূল সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে সংযোগ সড়ক, রঙ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ইনচার্জ এস. এম. রিয়াজ মোর্শেদ জানান, জমি অধিগ্রহণসহ কিছু জটিলতার কারণে কাজ কিছুটা বিলম্বিত হলেও বর্তমানে দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে চলছে। তিনি বলেন, “আসন্ন কোরবানি ঈদের আগেই সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য সেতুটি খুলে দেওয়া হবে। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।
জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৩ জুন গণভবন থেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফুলবাড়ী ধরলা সেতুর উদ্বোধন করেন।
তবে লালমনিরহাট অংশে রত্নাই নদীর ওপর জরাজীর্ণ একটি বেইলি ব্রিজ থাকায় ভারী যানবাহন চলাচল করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে আট বছর পেরিয়ে গেলেও ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী ও লালমনিরহাটসহ দুই জেলার মানুষ প্রত্যাশিত সুফল থেকে বঞ্চিত ছিলেন।
নতুন রত্নাই সেতু চালু হলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে। কমবে যাতায়াতের সময় ও পরিবহন ব্যয়। বিশেষ করে ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী ও লালমনিরহাটের ব্যবসায়ীদের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক আশাবাদ তৈরি হয়েছে। ঈদের আগেই সেতুটি চালু খবরে ফুলবাড়ীসহ লালমনিরহাটের সর্বস্তরের মানুষ মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে।
ফুলবাড়ী সদরের মেসার্স হক ট্রেডার্সের মালিক এমদাদুল হক ও মেসার্স স্বপন ট্রেডার্সের মালিক স্বপন মিয়া বলেন, “ফুলবাড়ী ধরলা সেতু উদ্বোধনের পরও রত্নাই সেতুর অভাবে আমরা পুরো সুফল পাইনি। অবশেষে আট বছরের ভোগান্তির অবসান হচ্ছে। এই সেতুটি চালু হলে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ কিলোমিটার পথ কমে যাবে। এতে আমাদের পণ্য পরিবহন খরচও অনেকটা কমে আসবে।
বালারহাট বাজারের মেসার্স তানিয়া ট্রেডার্সের মালিক আবু তালেব জানান, “সেতুটি চালু হলে নাগেশ্বরী হয়ে প্রায় ৬০ কিলোমিটার ঘুরে মালামাল আনতে হবে না। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাঁচবে।
ভুরুঙ্গামারীর সহকারী শিক্ষক আনারুল ইসলাম ও নাগেশ্বরী উপজেলার আব্দুল কুদ্দুস চঞ্চল বলেন, রত্নাই সেতুটি চালু হলে এ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতে ব্যাপক সুবিধা সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও আসবে ইতিবাচক পরিবর্তন। বিশেষ করে বড় বড় পাথরবাহী ট্রাক সরাসরি ফুলবাড়ী হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে চলাচল করতে পারবে। এতে পরিবহন খরচ ও সময় কমবে, আর স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে যোগ হবে নতুন গতি ও সম্ভাবনা।
ফুলবাড়ীর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম ও অলিউর রহমান নয়ন বলেন, “রত্নাই সেতু চালু হলে ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে ফুলবাড়ীর ব্যবসা-বাণিজ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।
লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দেবাশীষ সাহা বলেন, “ইতোমধ্যে সেতুর মূল কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে সংযোগ সড়ক ও রঙের কাজ চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ঈদের আগেই যান চলাচলের জন্য সেতুটি খুলে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে ভালো সময় দেখে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।
Related