1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
গঙ্গাচড়ায় বেতগাড়ী হাটে প্রকাশ্যে অতিরিক্ত অর্থ আদায় | দৈনিক সকালের বাণী
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৭:৩৮ অপরাহ্ন

কোটি টাকার ‘চক্র’  বন্ধে প্রশাসনের নীরবতা উদ্বেগজনক : গঙ্গাচড়ায় বেতগাড়ী হাটে প্রকাশ্যে অতিরিক্ত অর্থ আদায়

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬
  • ১৮ জন দেখেছেন
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী গরুর হাটে সরকারি নীতিমালা ভেঙে প্রকাশ্যে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও চাঁদাবাজির মতো পরিস্থিতি চলছে বলে স্থানীয় ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে । অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত সরকারি ফি উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে, যা মাস শেষে কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছায় বলে দাবি করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাটে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ফি নির্ধারিত থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই। গরু কেনাবেচার ক্ষেত্রে রশিদে উল্লেখিত ৬০০ টাকার পরিবর্তে ৮০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। একইভাবে বিক্রেতাদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত ৩০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে সত্যতা পাওয়া গেছে ।
ছাগল কেনাবেচার ক্ষেত্রেও ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি নির্ধারিত ২২০ টাকার পরিবর্তে প্রতি ছাগল লেনদেনে প্রায় ৬০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে বলে জানান একাধিক ক্রেতা ও বিক্রেতা। অভিযোগ রয়েছে, এ ক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয়ের কাছ থেকেই অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে হাঁস-মুরগির মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এ অনিয়ম থেকে বাদ পড়ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতি পিস হাঁস বা মুরগির জন্য ১০ টাকা করে জোরপূর্বক আদায় করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিক্রেতারা।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে স্থানীয়রা বলছেন, হাট এলাকায় সরকারি নির্ধারিত ফি তালিকা প্রকাশ্যে টানানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও সেখানে এমন কোনো তালিকা দেখা যায়নি। এতে করে সাধারণ মানুষ প্রকৃত ফি সম্পর্কে জানতে পারছেন না এবং ইজারাদারের ইচ্ছেমতো অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
হাটে দায়িত্বে থাকা একাধিক রশিদ লেখক নাম প্রকাশ না করে জানান, তারা নিজেরা সিদ্ধান্ত নেন না। ইজারাদার পক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয় বলে তারা জানান ।
ক্ষুব্ধ এক বিক্রেতা মুকুল মিয়া বলেন, “এটা আর হাট নেই, এটা জোর করে টাকা নেওয়ার জায়গা হয়ে গেছে। সরকার এক নিয়ম দেয়, আর এখানে এসে দেখি আরেক নিয়ম। গরিব মানুষের ওপর জুলুম চলছে।”
ধনতলা এলাকা থেকে আসা ক্রেতা বাচ্চা মিয়া বলেন, “প্রতিবাদ করলেই ভয় দেখানো হয়। আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি।”
পাশাপাশি গরুরহাট সংলগ্ন রংপুরগামী রাস্তায় গরুর হাট লাগানোর কারণে চরম দুর্ভোগে পরতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। এবিষয়ে সাধারণ যাত্রীরা বলছেন রাস্তা বন্ধ করে হাট বসানোয় চরম দুর্ভোগ দেখা দিলেও প্রশাসনের নিরবতা উদ্বেগজনক।
এ বিষয়ে বেতগাড়ী হাট ইজারাদার আবিদা সুলতানার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোনে তাকে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের ঢিলেঢালা ও উদাসীনতায় ক্রেতা – বিক্রেতার মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা বলছেন, দ্রুত তদন্ত করে বেতগাড়ী হাটে অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ জরুরী প্রয়োজন ।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )