


ফিফা বিশ্বকাপে আবারও জ্বলে উঠতে প্রস্তুত ব্ল্যাক স্টাররা। ঘানা টানা দ্বিতীয়বারের মতো এই বৈশ্বিক আসরে খেলতে যাচ্ছে। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল তারা, সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তির লক্ষ্যে আফ্রিকানদের। এনিয়ে পঞ্চমবার ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে খেলতে নামবে ঘানা। ২০১৪ ব্রাজিল ও ২০২২ কাতারে গ্রুপ পর্ব পার হতে ব্যর্থ হওয়ার পর ঘানা পুরোনো গৌরব ফিরে পেতে এবং নকআউট পর্বে পৌঁছাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
ঘানা কোচ: কার্লোস কুইরোজ
গত ৩১ মার্চ পদত্যাগের আগে দ্বিতীয় মেয়াদে ব্ল্যাক স্টারদের দায়িত্ব নেন অটো অ্যাডো। ১৩ এপ্রিল তার স্থলাভিষিক্ত হন অভিজ্ঞ ট্যাকটিশিয়ান কার্লোস কুইরোজ। ৭৩ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ কোচ বিশ্বকাপে বেশ সুপরিচিত মুখ। তিনি ২০১০-এ পর্তুগাল এবং ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২-এ ইরানের দায়িত্বে ছিলেন। ২০০২ সালের বিশ্বকাপেও তিনি দক্ষিণ আফ্রিকাকে তোলেন, যদিও টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই পদত্যাগ করেন।
ঘানার বিশ্বকাপ সূচি
১৭ জুন: ঘানা বনাম পানামা – টরন্টো স্টেডিয়াম
২৩ জুন: ইংল্যান্ড বনাম ঘানা – বোস্টন স্টেডিয়াম
২৭ জুন: ক্রোয়েশিয়া বনাম ঘানা – ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়াম
ঘানার বিশ্বকাপ ইতিহাস
কনফেডারেশন: সিএএফ
সেরা বিশ্বকাপ: কোয়ার্টার ফাইনাল (২০১০)
শেষ বিশ্বকাপ: কাতার ২০২২ (গ্রুপ পর্ব)
প্রথম বিশ্বকাপ: জার্মানি ২০০৬ (শেষ ষোলো)
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ: ৫ বার (২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০২২, ২০২৬)
টানা অংশগ্রহণের রেকর্ড: দুইবার
সামগ্রিক বিশ্বকাপ রেকর্ড: ম্যাচ ১৫, জয় ৫, ড্র ৩, হার ৭, গোল দিয়েছে ১৮, গোল খেয়েছে ২৩
ফিফা র্যাঙ্কিং: ৭৪তম।
ঘানার শেষ বিশ্বকাপ
কাতারে ঘানার বিশ্বকাপ শুরু হয়েছিল পর্তুগালের কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে। ওই ম্যাচে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে পাঁচটি ফিফা বিশ্বকাপে গোল করার রেকর্ড করেন। তবে ঘানা দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায় এবং দক্ষিণ কোরিয়াকে একই (৩-২) ব্যবধানে পরাজিত করে। মোহাম্মাদ সালিসু ও কুডুসের গোলে আফ্রিকানরা ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলেও কোরিয়া ১৬৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি গোল করে সমতা ফেরায়। শেষ পর্যন্ত কুডুসের দুর্দান্ত দ্বিতীয় গোলটি ঘানাকে জয় এনে দেয়। তবে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে উরুগুয়ের কাছে ২-০ ব্যবধানে হেরে ঘানা গ্রুপ এইচ-এর তলানিতে থেকে বিদায় নেয়।
ঘানার প্রথম বিশ্বকাপ
সার্বিয়ান কোচ রাতোমির দুজকোভিচের অধীনে ঘানা ২০০৬ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলে। টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কম বয়সী দল হিসেবে ঘানা তাদের উদ্বোধনী ম্যাচে ইতালির কাছে ২-০ ব্যবধানে হেরে বাজে শুরু করে। কিন্তু তারা প্রমাণ করে যে তারা কেবল খেলার জন্য খেলতে আসেনি। তারা চেক রিপাবলিককে ২-০ এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোতে পৌঁছে যায়। শেষ পর্যন্ত রোনালদো, রোনালদিনহো ও কাকাকে নিয়ে গড়া শক্তিশালী ব্রাজিলের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হেরে তারা বিদায় নেয়।
ঘানার বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা
আসামোয়াহ গিয়ান কেবল ঘানার পক্ষে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ (৬টি) গোলদাতাই নন, তিনি বৈশ্বিক এই টুর্নামেন্টে আফ্রিকার সর্বকালের সেরা গোলদাতা ক্যামেরুনের আইকন রজার মিলার চেয়ে এক গোল এগিয়ে। ২০০৬ সালে চেকদের বিপক্ষে মাত্র ৬৮ সেকেন্ডে করা গোলটি ছিল বিশ্বকাপে ঘানার প্রথম গোল।
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়
বিশ্বকাপে ঘানার শীর্ষ গোলদাতার পাশাপাশি গিয়ান সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন। তিন আসরে ১১ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ২০০৬ ও ২০১৪ সালে তিনটি করে এবং ২০১০ সালে পাঁচ ম্যাচ খেলেন গিয়ান। ১০টি ম্যাচ খেলে এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন ২৫ বছর বয়সী আন্দ্রে আইয়ু। ২০২৪ সাল থেকে জাতীয় দলে ডাক পাননি তিনি।
বিশ্বকাপে ঘানার সবচেয়ে বড় জয়
ঘানার পাঁচটি জয়ের মধ্যে মাত্র একটি জয় ছিল দুই গোলের ব্যবধানে—২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে তৎকালীন বিশ্বের দুই নম্বর দল চেকিয়ার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানের সেই জয়টি। ম্যাচের শুরুতেই গিয়ান গোল করে দলকে লিড এনে দেন এবং খেলা শেষ হওয়ার আট মিনিট আগে সুলি মুনতারি দ্বিতীয় গোল করে জয় নিশ্চিত করেন।
ঘানার বিশ্বকাপ স্কোয়াড
গোলরক্ষক- লরেন্স আতি-জিগি, বেঞ্জামিন আসারে, জোসেফ আনাং
ডিফেন্ডার- জোনাস আদজেতে, ডেরিক লুকাসেন, গিদেওন মেনসা, আবদুল রহমান বাবা, আবদুল মুমিন, জেরোম ওপোকু, কোজো পেপ্রা ওপং, আলিদু সেদু, মার্ভিন সেনায়া। মিডফিল্ডার- অগাস্টিন বোয়াকি, আবদুল ফাতাউ, এলিশা ওয়ুসু, থমাস পার্টে, কওয়াসি সিবো, কামালদিন সুলেমানা, ক্যালেব ইয়িরেনকাই। ফরোয়ার্ড- জর্ডান আয়েউ, ক্রিস্টোফার বোনসু বাহ, প্রিন্স কওয়াবেনা আদু, আর্নেস্ট নুয়ামা, আনতোয়ান সেমেনিও, ব্র্যান্ডন থমাস-আসান্তে, ইনাকি উইলিয়ামস