


লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের কাশীরাম এলাকায় আধুনিক পদ্ধতিতে কিং কোবরা বেগুন চাষ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন কৃষক গনি মিয়া। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় ‘কিং কোবরা’ জাতের বেগুন চাষ করে এখন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী তিনি।
কাশীরাম এলাকার কৃষক গনি মিয়া ২৫ শতাংশ জমিতে বেগুনের চারা রোপণ করেছেন। চাষাবাদে ব্যবহার করেছেন পরিবেশবান্ধব ‘ মাচা পদ্ধতি’। আধুনিক এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে মাটির আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা ঠিক থাকার পাশাপাশি আগাছা দমন সহজ হয়েছে। এতে সারের অপচয় ও সেচ খরচ কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে পোকামাকড়ের আক্রমণও।
সফল কৃষি উদ্যোক্তা গনি মিয়া জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি কৃষি কাজকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তবে সনাতন পদ্ধতির বদলে পরিকল্পিত চাষাবাদে এবার তার সাফল্য পেয়েছেন। কঠোর পরিশ্রমে তার সংসারে ফিরেছে সচ্ছলতা।
তিনি আরো বলেন, ‘আমি ক্ষেত সবসময় পরিষ্কার রাখি, তাই পোকার আক্রমণ কম হয়। এতে একদিকে বিষমুক্ত বেগুন বিক্রি করতে পারছি, অন্যদিকে কীটনাশক কেনার খরচ থেকেও রেহাই পাচ্ছি। গত বছরের তুলনায় এবার ফলন কিছুটা কম হলেও বাজারে দাম ভালো থাকায় আমি লাভবান।’
তার এই সফলতা দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও আধুনিক প্রযুক্তিতে সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় বলেন, ‘ওই প্রজেক্টের কৃষক গনি মিয়া বেগুন চাষ করে বেশ লাভবান হয়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তাকে সার-বীজ প্রদানসহ নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আমরা কৃষকদের ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করে বিষমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করতে কাজ করে যাচ্ছি।’