


লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে অনেকটা দায়সারাভাবে উদযাপন করা হয়েছে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ। মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠান হলেও এর প্রচার-প্রচারণায় দেখা গেছে নানা ঘাটতি। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত মৎস চাষীদের, দাওয়াত না দেওয়া ও প্রকৃত মৎস্য চাষীদের পুরস্কার না দেওয়ার- এবং বিশেষ করে জাতীয় পত্র-পত্রিকা ও গণমাধ্যমে এ বিষয়ে তেমন কোনো প্রচার-প্রচারণা চোখে পড়েনি। অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিয়ে দায় সেরেছেন ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে।
গতকাল রবিবার উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অফিসের যৌথ আয়োজনে উপজেলা পরিষদের হলরুমে মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তবে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিকে ঘিরে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরির জন্য যে ধরনের প্রচার-প্রচারণা প্রয়োজন, তা ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে, হুমায়ুন কবির বাবু নামে এক মৎস্যজীবী তার ফেসবুক ওয়াল লেখেন।
(হুবাহু তুলে ধরা হলো) দায়সারাভাবে পালিত হলো মৎস সপ্তাহ। যেখানে প্রকৃত মৎস্য চাষি কিংবা মৎস্য জীবীর উপস্থিতি নাই। কোন কোন মৎস্য চাষি কি কি সহযোগিতা পেলেন তা জানতে চাই? আমি একজন মৎস্য চাষি হিসাবে প্রশ্ন টি করলাম উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কে? বিশেষ করে আমাদের কাকিনা ইউনিয়নের মৎস্য জীবী ও মৎস্য চাষিরা গোটা জেলার মধ্যে মাছ উৎপাদনে বিশেষ অবদান রাখছেন। আমার মনে হয় কাকিনায় ২টি পোনামাছ এর হাট বসে যা বাংলাদেশের আর কোথাও আছে কি না আমার জানা নাই। অধিকার আদায়ে তারা প্রয়োজনে মাঠে নামবে।
অন্যদিকে মৎস্য অফিসে কর্মরত ফরিদুল ইসলাম নামের ফেসবুক আইডির ফেসবুক পোস্টে, হুমায়ুন কবির লেখেন কয়জন প্রকৃত মৎস্য চাষি নিয়ে আজকের প্রোগ্রাম হলো? সবকিছু এম পি মহোদয় এর দোহাই দিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা চলছে। পুরস্কার কে কে পেলো? বিভিন্ন সরঞ্জাম কাকে কাকে দেয়া হলো? জবাবদিহি করতে হবে তোমার মৎস্যকর্মকর্তা কে। স্থানীয়দের মতে, মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধ, দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়াতে মৎস্য সপ্তাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু যথাযথ প্রচার-প্রচারণা না থাকলে এ ধরনের কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে না।
পুরুস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট ২ আসনের এমপি রোকন উদ্দিন বাবুল, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল আহাদ লাজুসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারি ও অল্পসংখ্যক মৎস্য চাষ উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মৎস্য সপ্তাহের কর্মসূচিগুলো আরও ব্যাপকভাবে প্রচার এবং সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের সাথে মুঠোফোন কথা হলে তিনি জানান, প্রোগ্রামটি যেহেতু যৌথ এসব বিষয়ে আমি মতামত দিতে পারব না। আপনি মৎস্য কর্মকর্তার সাথে এ বিষয়ে কথা বলেন, বলেই ফোন রেখে দেয়।
তবে দায়সারা মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন ও প্রকৃত মৎস্য চাষিদের আমন্ত্রণ, পুরস্কার বিতরণ ও প্রচার-প্রচারণার বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল আজাদ লাজু সাথে মুঠো ফোনে কথা হলে, তিনি প্রকৃত মৎস চাষিদের আমন্ত্রণ ও পুরস্কার বিতরণ বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, আমি নতুন মানুষ, আপনি কাল অফিসে আসেন চা খেতে খেতে কথা বলব একথা বলেই ফোন কেটে দেন।