1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
জ্বালানি আমদানিতে প্রধানমন্ত্রীর ওপর পূর্ণ আস্থা: মুহাম্মদ এয়াকুব | দৈনিক সকালের বাণী
সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৫১ অপরাহ্ন

জ্বালানি আমদানিতে প্রধানমন্ত্রীর ওপর পূর্ণ আস্থা: মুহাম্মদ এয়াকুব

ঢাকা অফিস
  • আপলোডের সময় : রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ২২ জন দেখেছেন

বেসরকারিভাবে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে সিদ্ধান্ত নেবেন, তাতে পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অয়েল অ্যান্ড ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের মহাসচিব ও যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (জেওসিএল) লেবার ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ এয়াকুব। তিনি বলেছেন, দেশের স্বার্থ, জনগণের কল্যাণ এবং শ্রমিকদের অধিকার বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে এ বিষয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই।

তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই নীতির সঙ্গে শ্রমিকরাও একমত। বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও যেন দেশের স্বার্থই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়, সেটিই তাদের প্রত্যাশা।

জ্বালানি খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের হয়রানি বন্ধ এবং বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। সোমবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদে যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের (জেওসিএল) কার্যালয় ‘যমুনা ভবন’-এর সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে জেওসিএলসহ জ্বালানি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীরা অংশ নেন।

মুহাম্মদ এয়াকুব বলেন, দেশে আগে থেকেই বেসরকারি পর্যায়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি হচ্ছে। এখন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়েও আলোচনা চলছে। এ ক্ষেত্রে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় শ্রমিকদের অধিকার ও স্বার্থের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন—সবার আগে বাংলাদেশ। আমরাও বলতে চাই, সবার আগে বাংলাদেশ। আমরা আশা করি, দেশের স্বার্থ এবং জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি পর্যায়ে জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তাঁর সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’

তবে জ্বালানি খাতের শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই শ্রমিক নেতা বলেন, সরকারের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা একটি কুচক্রী মহল শ্রমিকদের অধিকার খর্ব করে গুরুত্বপূর্ণ এই খাতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

তার অভিযোগ, বিভিন্ন ধরনের অযাচিত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে শ্রমিকদের বিদ্যমান ২২টি সুনির্দিষ্ট সুযোগ-সুবিধা কমিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা সময়োপযোগী করার বিষয়েও গড়িমসি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতের শ্রম আইনকে শ্রমিকবান্ধব রাখার পরিবর্তে শ্রমিকবিরোধী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মুহাম্মদ এয়াকুব বলেন, সরকার শ্রমিকদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার কথা বলছে এবং এ লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু জ্বালানি খাতে এর বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) আওতাধীন পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, এসএওসিএল, এলপিজিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পরিবর্তে কমানোর চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিক নেতাদের বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জ্বালানি খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের পথ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অথচ শ্রমিক-কর্মচারীরা এই খাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চান। তাদের দাবি খুবই স্পষ্ট—হয়রানি বন্ধ করতে হবে, ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং অযাচিত হস্তক্ষেপমুক্ত কর্মপরিবেশ দিতে হবে।

‘আমরা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে চাই, জ্বালানি খাতে কাউকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না। শ্রমিক-কর্মচারীরা কোনো অতিরিক্ত সুবিধা চাইছেন না; তারা শুধু তাদের ন্যায্য অধিকার ও প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা চান,’ বলেন তিনি।

শ্রমিক নেতারা জানান, দুই বছর পর পর দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে বিপিসির তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সময়োপযোগী করা হয়। কিন্তু সর্বশেষ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রায় ১৯ মাস পেরিয়ে গেলেও কোম্পানিগুলোর অবহেলা ও গড়িমসির কারণে নতুন চুক্তি সম্পাদন করা সম্ভব হয়নি।

তাদের অভিযোগ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ গত ১৭ জুন বিপিসির আওতাধীন কোম্পানিগুলোর জন্য ‘প্রান্তিক সুবিধা নীতিমালা-২০২৬’-এর খসড়া প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে শ্রমিক-কর্মচারীদের বিদ্যমান ২২টি সুযোগ-সুবিধা কাটছাঁটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬-এর (সংশোধিত) ২(৬২) ধারায় সংজ্ঞায়িত ‘শিল্প বিরোধ এবং শিল্প বিরোধ নিষ্পত্তি’ সংক্রান্ত ২০৯, ২১০ ও ২১১ ধারা রহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন। তাদের মতে, এসব ধারা বাতিল হলে শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকার আদায়ে প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা সিবিএ নেতাদের কার্যকর ভূমিকা পালনের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়বে।

অন্যদিকে, গত ২৬ জুলাই খনিজ সম্পদ বিভাগের জারি করা এক অফিস আদেশে বিপিসির পরিচালক (অপারেশন)কে আহ্বায়ক করে আট সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তেল বিপণন কোম্পানিগুলোতে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সুপারিশ চাওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানান নেতারা।

শ্রমিক নেতারা আরও বলেন, জ্বালানি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানি-সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের অধীনে ‘নো ওয়ার্ক, নো পে’ ভিত্তিতে কম বেতনে কাজ করছেন বেশ কিছু শ্রমিক। কিন্তু নতুন লোকবল নিয়োগের সময় অভিজ্ঞ এসব শ্রমিককে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে না।

সমাবেশে জেওসিএল লেবার ইউনিয়নের সভাপতি আবুল হোসেন সভাপতিত্ব করেন। এতে জ্বালানি খাতের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।

এছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন, পদ্মা অয়েল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন সভাপতি জসিম উদ্দিন, এলপিজি শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন সভাপতি মনির হোসেন, বিপিসির শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, পদ্মা অয়েল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক সেলিম কবির চৌধুরী, যমুনা অয়েল লেবার ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ মন্নান প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ অয়েল অ্যান্ড ওয়ার্কার্স ফেডারেশন জ্বালানি তেল ও গ্যাস খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের শীর্ষ সংগঠন। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন, পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড, মেঘনা পেট্রোলিয়াম করপোরেশন লিমিটেড, যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড, ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেড এবং এলপি গ্যাস লিমিটেডের সিবিএ সংগঠনগুলোকে নিয়ে এই ফেডারেশন গঠিত।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )