1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
প্রকল্প বরাদ্দের ৩ অর্থবছরেও হয়নি কালভার্ট,বাঁশের সাঁকো একমাত্র ভরসা | দৈনিক সকালের বাণী
সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৩৪ অপরাহ্ন

প্রকল্প বরাদ্দের ৩ অর্থবছরেও হয়নি কালভার্ট,বাঁশের সাঁকো একমাত্র ভরসা

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৬ জন দেখেছেন
৫ গ্রামের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে সরকার নিয়েছিল একটি প্রকল্প। সেই প্রকল্পের ৮টি কালভার্টের কাজ শেষ হলেও হয়নি একটি কালভার্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন। এদিকে পার হয়ে গেছে তিনটি অর্থবছর। কত শতাংশ কাজ হয়েছে,কত টাকা অর্থছাড় হয়েছে,তার কোনো স্পষ্ট ধারণা দিতে পারেনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। মিলেছে দায়সারা  উত্তর।
এমন ঘটনা ঘটেছে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের গতিয়াশাম গ্রামে। এই কালভার্টটি হলে তা ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের গতিয়াশাম গ্রামকে যুক্ত করবে আরও চারটি গ্রামের সঙ্গে। কালভার্ট না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছে ৫ গ্রামের মানুষসহ ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬ শতাধিক শিক্ষার্থী। ফলে উন্নয়নের প্রসব বেদনা নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে এলাকার মানুষজন।

তথ্য-উপাত্ত বলছে,রাজারহাট উপজেলার গতিয়াশাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১০০ মিটার দক্ষিণে ৪ দশমিক ২৬ মিটার আরসিসি কালভার্ট নির্মাণের জন্য ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ১৯ লাখ ৪৩ হাজার ৭৭০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু তিন অর্থবছর শেষ,তবুও এখনো নির্মাণ হয়নি কালভার্টটি।

মূলত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সেতু/কালভার্ট নির্মাণ (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় রাজারহাট উপজেলায় ৯টি সেতু/কালভার্ট নির্মাণের জন্য ১৮ মার্চ ২০২৪ তারিখে দরপত্র বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ঠিকাদার মো: নূর আলম মিয়ার সঙ্গে ২ কোটি ২ লাখ ২৩ হাজার ৩৩৮ টাকায় চুক্তি হয়। প্রকল্পটির টেন্ডার আইডি ৯৬৫৭৬৪। এই ৯টি সেতু/কালভার্টের মধ্যে গতিয়াশাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণে নির্মাণের জন্য নির্ধারিত ৪ দশমিক ২৬ মিটার আরসিসি কালভার্টটির বরাদ্দ ১৯ লাখ ৪৩ হাজার ৭৭০ টাকা।

প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ১৪ মে ২০২৪। প্রকল্প শুরুর পর ৮২৩ দিন (২ বছর ৩ মাস ১ দিন) পেরিয়ে গেলেও এখনো কাজ শেষ হয়নি। কাজটি ঠিকাদার নূর আলম মিয়ার করার কথা থাকলেও বাস্তবে সাব-ঠিকাদার আমজাদ হোসেন কাজটি করছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাব-ঠিকাদার আমজাদ হোসেন। পুরো ৯টি সেতু/কালভার্ট নির্মাণের প্রকল্প শেষ না করেই ইতোমধ্যে ১ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার ১০০ টাকা অর্থছাড় করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা।

স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী,প্রায় দেড় বছর আগে কালভার্ট নির্মাণের জন্য পুরোনো কালভার্টটি ভেঙে ফেলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এরপর হঠাৎ করেই কোনো দৃশ্যমান কারণ ছাড়াই কাজ বন্ধ করে চলে যান তারা। দীর্ঘ সময় ধরে কাজ বন্ধ থাকায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম (৬০) বলেন, “এটি আমাদের যাতায়াতের একমাত্র পথ। আমরা কৃষক মানুষ—আমাদের জমি রাস্তার ওপারে। জমির কাজ করতে ওপারে যেতে হয়। মেম্বার-চেয়ারম্যানকে বলেছিলাম,তবুও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।”

স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল ইসলামের ভাষ্য, “প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে মুসরুত নাকেন্দা নেসামিয়া মডেল মাদ্রাসা,গতিয়াশাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সরকারবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী এবং পাঁচ গ্রামের প্রায় ৬ হাজার মানুষ চলাচল করে। কিন্তু কালভার্ট না থাকায় এখন শিশু ও বৃদ্ধদের চলাচল চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।”

“অস্থায়ীভাবে একটি বাঁশের সাঁকো ও বাইপাস সড়ক নির্মাণ করার কথা থাকলেও সেটি দেয়নি ঠিকাদার। পরে আমরা গ্রামবাসীরা মিলে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছি।” তিনি আরও যোগ করেন।

স্থানীয় দিনমজুর আলম মিয়া ও ফজলু মিয়া জানান,ব্রিজ নাই,এই আস্তা দিয়া ভ্যান চলবার পাই না। মেলা দূর ঘুইরা যাওয়া নাগে। হামরা দিন আনি দিন খাই। এই ব্রিজের অভাবে খুব কষ্টত আছি।”

স্থানীয় যুবক শাহজালালের ভাষ্য,আমার ভাতিজা এই সাঁকো দিয়ে পারাপারের সময় পানিতে পড়ে যায়। পরে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে।”

গতিয়াশাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মুসরুত নাকেন্দা নেসামিয়া মডেল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা জানায়,দেড় বছর ধরে তারা এভাবেই ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে।

প্রকল্পের ঠিকাদার নূর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,ওই জায়গায় বিদ্যুৎ সমস্যা,বৃষ্টি ও বন্যার কারণে কাজটি বিলম্ব হচ্ছে। এবছর নভেম্বরের মধ্যে কাজটি শেষ করার কথা জানান তিনি।

ঠিকাদারের সাফাই গেয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো:  আসাদুজ্জামান বললেন,এই ঠিকাদার অনেক কাজ পেয়েছে,এজন্য কাজটি শেষ করতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে দ্রুতই কাজটি শেষ করার চেষ্টা করছি।”

এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, বিষয়টি তার জানা। তিনি এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )