


শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশিত ফলাফল করতে না পারলে তাদের মেধা নিয়ে প্রশ্ন না তুলে কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন দিনাজপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া। গতকাল রবিবার দুপুরে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার জমিদার নগরে শাপলা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে নবনির্মিত ‘আইসিটি ল্যাব’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া বলেন, পর্যাপ্তসংখ্যক শিক্ষক থাকার পরও শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশিত ফলাফল না করলে এর কারণ খুঁজে বের করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মেধা ও জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। তাদের মেধা বিকাশে শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, “শুধু মাস যাবে, মাসের বেতন পাব এভাবে চলবে না। শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে পড়ানোর দায়িত্ব শিক্ষকদের নিতে হবে। শিক্ষার্থীরা কেন ভালো ফলাফল করতে পারছে না, সেই জায়গাটি আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।” সরকার শিক্ষা খাতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের বিনিয়োগের বিপরীতে যদি কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না আসে, তাহলে বিষয়টি নিয়ে সবাইকে ভাবতে হবে। শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না; শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরও নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, “আমার মনে হয়, আমাদের কোথাও একটা ঘাটতি আছে। সেই ঘাটতি পূরণ করতে হবে। শিক্ষকরা যদি আন্তরিকভাবে পড়ান এবং শিক্ষার্থীরা মনোযোগ দিয়ে পড়ে, তাহলে ভালো ফলাফল করা কঠিন কোনো বিষয় নয়।” ‘অটোপাসের সুযোগ আর ফিরবে না’ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে হুইপ বলেন, বাবা-মা সন্তানদের পড়াশোনার পেছনে অর্থ ব্যয় করছেন।
তাই শিক্ষার্থীদেরও মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। বাবা-মায়ের সুনাম ও সম্মান রক্ষার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য ধরে রাখতে ভালো ফলাফল করার চেষ্টা করতে হবে। পরীক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অটোপাসের সুযোগ আর ফিরে আসবে না। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করেই পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। বইয়ের বিষয়বস্তু ভালোভাবে পড়া থাকলে পরীক্ষার প্রশ্ন কঠিন মনে হবে না; না পড়লে সহজ প্রশ্নও কঠিন মনে হবে। তিনি বলেন, “না পড়ে পরীক্ষা দেওয়ার কোনো সুযোগ রাখা হলে আমাদের জাতি ধ্বংস হবে। আমরা সেই জায়গায় আর ফিরতে চাই না। সবাইকে পড়াশোনা করে পরীক্ষা দিতে হবে।”
বাল্যবিবাহের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করে হুইপ বলেন, মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে না দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে। শিক্ষাজীবন শেষ করে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে হবে। পড়াশোনা করলে ভবিষ্যতে ভালো কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
অভিভাবকদের সন্তানদের পড়াশোনার প্রতি নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকদেরও শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিক হতে হবে। শুধু বেতন পাওয়ার জন্য দায়িত্ব পালন করলে হবে না; শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার দায়িত্বও শিক্ষকদের নিতে হবে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরিচালনা কমিটিকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মেরিনা খাতুন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান সরকার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক চৌধুরী, জেলা বিএনপির অর্থবিষয়ক সম্পাদক ও ভাবকী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রবিউল আলম তুহিন, উপজেলা বিএনপির সদস্য সাঈয়েদ আহমেদ সেলিম বুলবুল, ভেড়ভেড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম বাবুল এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. ওয়াইদুর রহমানসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। পরে প্রধান অতিথি নবনির্মিত আইসিটি ল্যাবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এর আগে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত র্যালি, আলোচনা সভা ও পোনা মাছ অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন তিনি।