


ব্রহ্মপুত্র নদের কোলঘেঁষা গাইবান্ধার ফুলছড়ির বালাসীঘাট এলাকার কাইয়ার হাট। প্রত্যন্ত এই এলাকার কৃষক পরিবারের সন্তান মো. শরিফুল ইসলাম এখন উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমাচ্ছেন চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে। চীনা সরকারের সম্পূর্ণ অর্থায়নে (ফুল-ফান্ডেড) স্কলারশিপ পেয়েছেন তিনি। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে শরিফুল তৃতীয়। তাঁর বাবা প্রয়াত আবদুল মজিদ সরকার ছিলেন কৃষক। সীমিত সামর্থ্যের পরিবারের সন্তান হয়েও ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় ছিলেন মেধাবী ও অধ্যবসায়ী।
একের পর এক সাফল্য তাঁকে এগিয়ে নিয়েছে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। শরিফুল ২০০৭ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় সাধারণ বৃত্তি, ২০১০ সালে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় সাধারণ বৃত্তি এবং ২০১৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনের পাশাপাশি সাধারণ বৃত্তি পান। গাইবান্ধা সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং গাইবান্ধা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন তিনি। পরে ভর্তি হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০২০ সালে স্নাতক পরীক্ষায় নিজ বিভাগে মেধাক্রমে দ্বিতীয় এবং মাস্টার্সে প্রথম স্থান অর্জন করেন। কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বঙ্গবন্ধু মেরিট স্কলারশিপসহ বিভিন্ন ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাবৃত্তি ও পুরস্কার লাভ করেন।
শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি গবেষণাতেও নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন শরিফুল। তিনি সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে গবেষণা করছেন। তাঁর দুটি গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এবার তাঁর সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হলো আরও বড় অর্জন। চীনা সরকারের ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপে বেইজিংয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। এতে পরিবার, শিক্ষক, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যন্ত এলাকার কৃষক পরিবারের সন্তান থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া শরিফুলের এই পথচলা শুধু তাঁর পরিবারের জন্য নয়, পুরো গাইবান্ধার জন্যও গর্বের।
তাঁর সাফল্য দেখিয়ে দিয়েছে, সুযোগ ও সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা থাকলেও স্বপ্ন, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রম একজন শিক্ষার্থীকে অনেক দূর এগিয়ে নিতে পারে। ব্রহ্মপুত্রের তীরের কাইয়ার হাট থেকে শরিফুল এখন বেইজিংয়ের পথে। তাঁর এই অর্জন এলাকার তরুণ শিক্ষার্থীদের জন্যও নতুন স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।