


দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট থানায় দায়ের করা একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) কে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনের ঘটনা ঘটেছে।
গত ২৫ অক্টোবর বিন্যাগাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আল-আমিন নামে এক ব্যক্তি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে জিডির বাদী আব্দুল হালিম অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে রানীগঞ্জ বাজারে অবস্থিত ঘোড়াঘাট প্রেস ক্লাব (রানীগঞ্জ) এ আয়োজিত এক পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আব্দুল হালিম দাবি করেন, ঘোড়াঘাট থানায় দায়ের করা জিডি নম্বর ২৫-কে কেন্দ্র করে বিন্যাগাড়ি গ্রামের বাসিন্দা আল-আমিনসহ দুই থেকে তিনজন ব্যক্তি তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। এ-সংক্রান্ত সংবাদ ‘সংবাদ প্রতিক্ষণ’ ও ‘জয়পুর বার্তা’ নামের দুটি পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি তাঁর নজরে আসে বলে জানান তিনি। প্রকাশিত সংবাদগুলোকে অসত্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর দাবি করে আব্দুল হালিম বলেন, এসব বক্তব্যের মাধ্যমে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, সংবাদ সম্মেলনে তাঁর ও বিবাদীপক্ষের গ্রামের পরিচয় নিয়ে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা সঠিক নয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁরা একই গ্রামের বাসিন্দা। তবে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তির স্থায়ী ঠিকানা চিরিরবন্দর এলাকায় হলেও তিনি শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করেন বলে দাবি করেন আব্দুল হালিম।
জিডি দায়েরের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আব্দুল হালিম বলেন, পাশাপাশি অবস্থিত দুটি পুকুরকে কেন্দ্র করে তাঁর সঙ্গে বিবাদীপক্ষের বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ বিরোধের জেরে তাঁকে একাধিক মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয় এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিজের নিরাপত্তা ও আইনগত প্রতিকার চেয়ে ঘোড়াঘাট থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল হালিম আরও অভিযোগ করেন, আগে দায়ের করা মামলাসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর অবস্থা খারাপ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। এ ছাড়া প্রশাসনের মাধ্যমে তাঁকে দেখে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে এবং টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা না করলে পথে-ঘাটে মারধর করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আব্দুল হালিমের দাবি, এসব ঘটনা তাঁকে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ফেলেছে। এ অবস্থায় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত আল-আমিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জিডির বাদী মূলত তাঁর প্রতিপক্ষের সঙ্গে পুকুর ও জমিজমাসংক্রান্ত মামলা-মোকদ্দমা নিয়ে বিরোধে জড়িত। তাঁর সঙ্গে ওই পক্ষের কোনো বিরোধ নেই দাবি করে আল-আমিন বলেন, ‘কোনো অজানা কারণে আমার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।’
টাকা দাবির অভিযোগ প্রসঙ্গে আল-আমিন বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যদি ১০ টাকাও দাবি করার কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে প্রশাসন তদন্ত করে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।’