1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে আসছে না ভারতের পাথর | দৈনিক সকালের বাণী
মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১২ পূর্বাহ্ন

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে আসছে না ভারতের পাথর

তেঁতুলিয়া(পঞ্চগড়) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ২৫৫ জন দেখেছেন

দেশের চারদেশীয় স্থলবন্দর চারদেশীয় বাংলাবান্ধা। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের সাথে ট্রানজিট সুবিধা থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য অপার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। চলমান বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার টানাপোড়েনের সম্পর্ক বিরাজ করলেও স্বাভাবিক রয়েছে আমদানি-রপ্তানী কার্যক্রম। প্রতিদিন ২শ থেকে আড়াইশো পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করছে বন্দরটিতে। অপরদিকে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানী হচ্ছে বন্দর সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে। তবে গত ১৮ নভেম্বর থেকে বন্দরটিতে ভারতীয় পাথর আসছে না বলে জানা গেছে।

 

বর্তমানে বন্দরটি আমদানিকৃত পণ্যগুলোর মধ্যে প্রায় ৯৮ শতাংশই পাথর। এ ছাড়া মসুর ডাল, গম, ভুট্টা, চিরতা, হাজমলা, যন্ত্রপাতি, প্লাস্কিকদানা, রেললাইনের স্লিপার, খইল, আদা ও চিটাগুড় আমদানি করা হয়। বর্তমানে গত কয়েক দিনে দুই দফায় ২০০ মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ভারত ও নেপালে পাট, ওষুধ, প্রাণ ও ওয়ালটনের পণ্য, জুস, মোটরসাইকেল, ব্যাটারিসহ নানা ধরনের পণ্য রপ্তানি হচ্ছে।

 

সরেজমিনে বন্দরটি ঘুরে দেখাযায়, চলমান ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে চলমান পরিস্থিতির মধ্যেও বন্দরটির সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাথে আমদানি-রপ্তানী কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। প্রতিদিনই ভুটান থেকে আমদানি হচ্ছে ট্রাক ভর্তি পাথর। তবে গত ১৮ নভেম্বর হতে বন্দরটিতে ভারতীয় পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে বলে জানায় স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ।

 

কারণ হিসেবে জানা গেছে দু’দেশের উত্তেজনা পরিস্থিতিতে নয়, পাথর না আসার কারণ হচ্ছে পাথরের ভাড়া কমে যাওয়ায়। এ নিয়ে গত ৩০ নভেম্বর ভারতের ফুলবাড়ি বর্ডার লোকাল ট্রাক ওনার্স ওয়েলফার এসোসিয়েশন বাংলাদেশের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর লোড-আনলোড শ্রমিক ইউনিয়নকে দেয়া চিঠি সূত্রে জানা গেছে এই তথ্য।
চিঠিতে বলা হয়েছে পাথরের ভাড়া কমে যাওয়ায় ৬০ টাকা খরচ বহন করতে পারছেন না সেদেশের লোকাল ট্রাক ওনার্স ওয়েলফার এসোসিয়েশন। টন প্রতি আনলোড ৩০ টাকা ধার্য করলে তারা পূণরায় ট্রাক চালু রাখবেন। তানাহলে অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছেন। এ কারণেই ভারতের পাথর আমদানি হচ্ছে না বলে জানা গেছে।

 

স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ, ব্যবসায়ীরা ও আমদানিকারকরা বলছেন, বন্দরটির সীমান্তগুলোতে চলমান বাংলাদেশ-ভারতের পরিস্থিতিতে কোন সমস্যা নেই। স্বাভাবিকভাবে চলছে ব্যবসা-বাণিজ্য। তবে গত ৫ আগস্টের পর কিছুদিন সামান্য সমস্যা দেখা দিয়েছিল। বন্দরটি পাথর নির্ভরশীল। ভারতের সাথে বর্তমানে আমাদের দেশে সম্পর্কের অবনতি হলেও ব্যবসা-বাণিজ্যে কোন সমস্যা সৃষ্টি হয়নি। বন্দর সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে নিয়মিত আমদানি-রপ্তানী কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। তবে কয়েকদিন ধরে ভারতের পাথর আসছে না। ভাড়া বৃদ্ধির কারণে ভারতের লোড-আনলোড এসোসিয়েশন ট্রাক পাঠাচ্ছেন না।

 

তবে ভূটান থেকে প্রতিদিন আমদানি করা দুইশো থেকে আড়াইশো পাথর বোঝাই ট্রাক প্রবেশ করছে বন্দরে। ভারতের সাথে সৃষ্ট সমস্যা নিরসন হলে ভারত থেকে পাথর আমদানি হলে বহুগুনে ফিরবে কর্মচাঞ্চল্য। বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রায় ১০ একর জায়গার ওপর গড়ে ওঠা বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরটি। ১৯৯৭ সালে নেপালের সঙ্গে এক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে প্রথম আমদানি-রপ্তানি শুররুহয়। ২০১১ সালে ভারতের সঙ্গে ও ২০১৭ সালে ভুটানের সঙ্গে পণ্য আমদানি-রপ্তানি শুরু হয়।

 

বর্তমানে বন্দরটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মেট্রিক টন পাথর আমদানি হচ্ছে। গত জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৭ লাখ ৪৮ হাজার ২১৮ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি করা হয়েছে। রপ্তানী হয়েছে ৩০ হাজার ৪১৭ মেট্রিক টন পন্য। আমদানির পরিধি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্দরের ৩ লাখ বর্গফুটের ইয়ার্ডে দেখা দিয়েছে জায়গা সংকুলান।

বন্দরের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, গেল অর্থবছরে (২০২৩-২৪) বন্দরটি দিয়ে ৭৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। আর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আয় হয়েছে ২০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। বাংলাবান্ধা কাস্টম সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বর্তমান বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এটা ঘিরে আমাদের স্থলবন্দরটিতে ব্যবসা-বাণিজ্যে কোন প্রভাব পড়েনি। স্বাভাবিক রয়েছে। তবে কিছুদিন ধরে ভারতের পাথর আমদানি হচ্ছে না।

 

এর কারণ চলমান ইস্যু নয়, ভারতের ফুলবাড়ি বর্ডার লোকাল ট্রাক ওনার্স ওয়েলফার এসোসিয়েশন তাদের ট্রাকের ভাড়া কম হওয়ার কারণে পাথর পাঠাচ্ছেন না। আশা করছি এ সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। বাংলাবান্ধা আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের আহ্বায়ক রেজাউল করিম শাহীন বলেন, ভৌগলিক অবস্থানগত দিক থেকে আমাদের চারদেশীয় স্থলবন্দরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ-ভারতের সাথে চলমান পরিস্থিতিতেও বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।

 

নিয়মিত পাথর আমদানি হচ্ছে, বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানী অব্যাহত রয়েছে।তবে ভারতের ফুলবাড়ির ট্রাক মালিকরা তাদের পাথরের ভাড়া কম হওয়ায় পাথর পাঠাচ্ছেন না। সমস্যাটি সমাধানে আমরা ব্যবসায়ীরা কাজ করছি। সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখার জন্য আমাদের অবস্থান থেকে আমদানি-রপ্তানি গ্রুপের নেতা, বন্দর সংশ্লিষ্ট ও ব্যবসায়ীরা মিলে সবাই গুরুত্ব সহকারে বন্দরে কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট লিমিটেডের ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এটাকে ঘিরে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে কোন প্রভাব পড়েনি। সব স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিদিন ভুটান থেকে ২০০-২৫০টি পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করছে। বাংলাদেশ থেকে বন্দর সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে পণ্য রপ্তানী হচ্ছে। গত ১২ দিনের মধ্যে দুইবার ভারত থেকে আতপ চাল আমদানি হয়েছে। তবে গত ১৮ নভেম্বর থেকে ভারতের পাথর আসছে না। এটা চলমান কারণ নয়। ফুলবাড়িতে ট্রাক মালিকদের ভাড়া নিয়ে একটু সমস্যা হয়েছে। আশা করছি এটারও সমাধান হয়ে যাবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )