
হিমালয় কন্যা পঞ্চগড়ে চলছে পৌষের শীতের দাপট। কুয়াশা কম থাকলেও ঠান্ডা বাতাসে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। শীতের তীব্রতা বেশি থাকছে সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত। দিনে সূর্যের দেখা মেলায় মিলছে খানিক স্বস্তি। তাপমাত্রা অনুযায়ী বর্তমানে চলছে মৃদু শৈত্য প্রবাহ। গত তিন দিন ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে প্রান্তিক এ জেলায়। রবিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়াতে।
এদিকে শীতের তীব্রতা বাড়ায় শ্রমজীবী মানুষেরা কষ্টে পড়েছেন। অনেকেই খড়কুটো জ¦ালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। এদিকে হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগির সংখ্যা। ডায়েরিয়া নিউমোনিয়া ও শ^াসকষ্টসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হচ্ছেন। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি ৪৫ জন শিশুর বেশিরভাগই শীতজনিত রোগে আক্রান্ত।
এই মৌসুমের শীতে শনিবার রাতে ডায়েরিয়াসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মোস্তাকিম নামে ৯ মাসের একটি শিশু মৃত্যু ঘটনা ঘটেছে। শিশুটি স্বর্দি, জ¦র, কাশি ও ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ঝলই শালশিরি ইউনিয়নের রংপুরিয়াবস্তির আব্দুল লতিফের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, শিশুটির মা বাবলি আক্তার কিছু বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। তার স্বামী অন্যত্র বিয়ে করলে বাবলির জায়গা হয় বাবার বাড়ির এলাকা পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাগুরা প্রধানপাড়া স্কুলের মাঠে। সেখানে একটি ঝুপড়ি ঘর তুলে সন্ধান নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন পাড় করতেন তিনি। প্রচন্ড শীতে গত শুক্রবার তার ছেলে স্বর্দি, জ¦র, কাঁশি ও ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। শনিবার মধ্যরাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশুটি। শিশুটি বাড়িতে নিয়ে দাফন করারও পয়সা ছিলো না। হাসপাতালের অন্যান্য রোগির স্বজন ও স্থানীয়রা টাকা পয়সা তুলে শিশুটিকে বাড়িতে নিয়ে দাফন করার ব্যবস্থা করে দেয়।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মনোয়ার হোসেন বলেন, শিশু শুধু ডায়েরিয়া নয় শীতজনিত স্বর্দি, কাঁশি ও জ¦র নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। শীতের এই সময়ে শিশুরা বেশি অসুস্থ হচ্ছে। তাই বাবা মাকে দারুন সতর্ক থাকতে হবে যেন কোন ভাবেই শিশুদের ঠান্ডা না লাগে।
Related