1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
ফুলবাড়ীতে ভাঁটফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করেছেন প্রকৃতি প্রেমীসহ পথচারীরা | দৈনিক সকালের বাণী
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ০৩:২৪ অপরাহ্ন

ফুলবাড়ীতে ভাঁটফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করেছেন প্রকৃতি প্রেমীসহ পথচারীরা

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ৬ মার্চ, ২০২৫
  • ১৯৭ জন দেখেছেন
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে সড়কের দু’পাশে, গ্রামের আঁকাবাঁকা মেঠো পথ ও আনাচে-কানাচে অযত্নে অবহেলা প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা ফোটা শুভ্র সাদা ভাঁটফুলের অপরুপ সৌন্দর্য উপভোগ করছে পথচারীসহ প্রকৃতি প্রেমিরা। উপজেলা জুড়ে বিভিন্ন সড়কের দু’পাশে অযত্নে, অনাদরে ও অবহেলায় বেড়ে ওঠা গ্রামবাংলার অতি পরিচিত বহুবর্ষজীবী বুনো উদ্ভিদ হচ্ছে ভাঁট গাছ।গ্রাম বাংলার চিরচেনা এ ফুলটি হরহামেশা দেখা গেলেও সাদা ফুলের দিকে তাকালে অনেকের মন ভালো হয়ে যায়। মনের মধ্যে একটা ভাল লাগার অনুভূতি জাগে।
অঞ্চলভেদে এই গাছের ফুল ভাইটা ফুল, ঘেটু ফুল, ভাত ফুল, বনজুঁই ফুল, ঘণ্টাকর্ণ হলেও ফুলবাড়ীতে ভাঁট ফুল নামেই পরিচিত। ফাল্গুন মাসে এই ফুল ফোঁটে। এই ফুলগুলো চৈত্র মাস ও বৈশাখ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত শোভা ছড়ায়।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন যাওয়ার পথে দুই পাশে ভাঁট ফুলের সমারোহ দেখলে মনে হবে প্রকৃতি যেন অপরূপ সাজে সেজেছে। এছাড়া গ্রাম বিভিন্ন চরাঞ্চলসহ সর্বত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা চার পাশের বাঁশ ও সুপারী বাগানগুলোতে ভাঁট ফুলের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হবেন যে কেউ।
চলাচলকারী ফুল প্রেমিরা দেখে মুগ্ধ হন। বসন্তের আগমনে পলাশ-শিমুলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই ফুল ফোঁটে। এই ফুল ফাল্গুন ও চৈত্র মাসে দেখা যায়। বিশেষ করে পরিত্যক্ত মাঠ, বন, রাস্তা কিংবা জলাশয়ের পাশে ভাঁট ফুলের ঝোঁপ চোখে পড়ে। এর বৈজ্ঞানিক নাম, ক্লেরোডেনড্রাম ভিসকোসাম। ইংরেজি নাম হিল গেন্টারি বোয়ার ফ্লাওয়ার। জানা গেছে এই ভাঁটফুলের আদি নিবাস ভারতবর্ষ, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার অঞ্চলে। তবে যতদিন যাচ্ছে ততই হারিয়ে যাচ্ছে ভাঁটফুল। আগে সব খানেই এ প্রজাতির ফুলের বিস্তার ছিল। এখন বেশ দুর্লভ। গ্রামে কমেছে, শহরে তেমন চোখে পড়ে না। কিন্তু ফুলপ্রেমীরা খুঁজলে নিরাশ হবেন না।
ফুলপ্রেমি সাইফুর রহমান সরকার কলেজের  সাবেক  অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম জানান, আগে যেখানে সেখানে ভাঁটগাছের দেখা মিলতো। আগের মানুষ এটি ঔষধি গাছ হিসাবে চিনতো। গাছের ভেষজ গুণাগুণও রয়েছে। প্রতিদিন ভাঁটগাছের পাতার রস খেতো। ভাঁট গাছের পাতার রস খুবই উপকারী। বিশেষ করে গ্র্যাস্ট্রিক ও ডায়াবেটিসের রোগীর জন্য উপকার বেশি। এখনো পুরাতন মানুষজন বাড়ীর কাছে না থাকলে দুর-দুরান্তর থেকে ভাঁটগাছের পাতা সংগ্রহ সকালে খালি পেটে ঔষধ হিসাবে সেবন করে। তিনি আরও জানান ভাঁট গাছগুলো সাধারণত ২ থেকে ৪ মিটার লম্বা হয়। পাতা ৪ থেকে ৭ ইঞ্চি লম্বা হয়।
ভাঁটগাছের পাতাগুলো খসখসে হলেও দেখতে কিছুটা পানপাতার মতো । ডালের শীর্ষে পুষ্পদন্ডে ফুল ফোঁটে। পাপড়ির রং সাদা এবং এতে বেগুনি রঙের মিশ্রণও আছে। বসন্ত থেকে গ্রীষ্ম অবধি ভাঁটগাছের ফুল ফোঁটে। এই ফুলের রয়েছে মিষ্টি সৌরভ। রাতে বেশ সুঘ্রাণ ছড়ায় এই ফুল। প্রকৃতি প্রেমিরা যেভাবে ফুলের সুভাষ নেন। তেমনি ভাবে এ ফুল ফোঁটার পর মৌমাছিরা ভাঁট ফুলের মধু সংগ্রহ করে। ফুল গাছটি ভাঁট বলে পরিচিত হলেও স্থানভেদে এবং ভিন্ন ভিন্ন জনগোষ্ঠীতে এর ভিন্ন ভিন্ন নামও রয়েছে বলে জানান তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )