গত ১৯ এপ্রিল পরিদর্শনকৃত রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর সেতু সংলগ্ন চর কলাগাছি ১টি। চর কলাগাছিতে সরকারি নিষ্কণ্টক খাস খতিয়ান ভুক্ত ১০০ একর জায়গার মধ্যে ২৯ একর জায়গায় এক হাজার শয্যার চীন – বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব সরকারি ভাবে পাঠানোর প্রক্রিয়াও ইতোমধ্যে সম্পুর্ন হয়েছে।
প্রস্তাবিত এক হাজার শয্যার চীন- বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল ঘিরে তিস্তা নদী তীরবর্তী সুবিধা বঞ্চিত লক্ষ লক্ষ মানুষের মনে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি যেন স্বপ্ন থেকে সত্যি হওয়ার পথে হাটছে।
রংপুরের মহিপুরে এই হাসপাতাল নির্মাণের দাবি তুলে ধরে স্থানীয় চর ইচলী বাগের হাটের বাসিন্দা বল্টু মিয়া বলছেন, হামার চর এলাকাত কায়ো( কেউ) অসুস্থ হইলে জলচৌকি (ছোট সাইজের চৌকি) না হয় চেয়ারত বসে সাঁই সাজে ( বাসের লাঠিতে দুজন কাঁধে নেওয়া) শহর যাওয়া নাগে। শহরে তো ছোট বড় সরকারি হাসপতাল আছে। চীন সরকারের দেওয়া হাসপাতালটা সরকার হামার কথা ভাবিয়া নদীর পাড়োতে দেউক।
চর মিনার বাজারের আব্দুল মান্নান বলেন, মুই মনে করং (করি) চীন যে হাসপাতাল রংপুরোত দিবার চায় চোল সরকার হামার মতোন চরের মানুষের কথা ভাবিয়া শহরোত না দিয়া মহিপুরে যে জায়গাটা দেখি গেইছে সেটে ( সেখানে) দিলে হামার (আমাদের) খুব উপকার হইল হয়। না হইলে তো পাটগ্রাম থাকি কুড়িগ্রাম পর্যন্ত নদীর পারের মানুষের কোন লাভ হবার নেয়। এসকেএস বাজারের লাল মিয়া বলছেন, ইয়ার আগোত শুননো হামার এটে ইপিজেড হইবে,হামরা খুশিতে হাততালি দেন, হামাক আর ঢাকা, কুমিল্লা কামোত যাওয়া নাগবের নেয়। পরে দেখনো হামার আশার মুকোত ছাই। কিছুই হইল ন্যা । এবার চীনের হাসপাতাল দিবার চেয়া আর ঠগান না, হাসপাতালটা হামার কথা ভাবিয়া মহিপুরোত দ্যান, খালি শহরের মানুষের কথা ভাবলে বৈষম্য তাহাইলে দূর হইল কোনটে।
পাশাপাশি স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, রংপুর বিভাগের প্রাণকেন্দ্র রংপুর জেলা, তাই বিভাগের অন্য জেলার তুলনায় রংপুরে এই হাসপাতাল নির্মাণের ক্ষেত্রে রংপুর জেলাকে সবার আগে বিবেচনায় নিয়ে ঘোষিত চীন- বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল নির্মাণ রংপুরে করা প্রয়োজন।রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুরে পরিদর্শনকৃত চর কলাগাছিতে হাসপাতাল নির্মাণের উপযোগী নিস্কন্টক ১০০ একর খাস জায়গা রয়েছে।ফলে সরকারীভাবে জায়গা ক্রয়ের প্রয়োজন হবে না। মহিপুর বিভাগীয় শহর রংপুরের কাছাকাছি হওয়ায় যোগাযোগ সহজ। পাশাপাশি মহিপুর সেতু বিভাগীয় শহর রংপুরের সাথে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলাকে সংযোগ। রংপুর জেলা বিভাগের মধ্যবর্তী স্থানে হওয়ায় উত্তরের জেলা লালমনিরহাট ও উত্তর পূর্বের জেলা কুড়িগ্রামের সাথে নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধা রয়েছে।
নীলফামারী জেলাকে জলঢাকা বাইপাস হয়ে গংগাচড়ার সাথে সংযুক্ত করেছে । গাইবান্ধা জেলাকেও সুন্দরগঞ্জ পাইপাস হয়ে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থায় রংপুরের সাথে সংযুক্ত করেছে ।মহিপুর স্থল যোগাযোগ ছাড়াও নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থাকেও তরান্বিত করবে।তিস্তা নদী তীরবর্তী চতুর্দিকের কমপক্ষে ৩০ কি:মি: এলাকার অবহেলিত, সুবিধা বঞ্চিত প্রায় ২৫ লক্ষ মানুষের সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিতের মাধ্যমে স্বল্প ব্যয়ে স্বাস্থ্য সেবা সুনিশ্চিত হবে ।
দেশের অভ্যন্তরিন ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থা হিসেবে ৪৫ কি: মি: দূরে রয়েছে সৈয়দপুর বিমানবন্দর, আবার লালমনিরহাট জেলা শহর মহিপুর থেকে মাত্র ২৪ কি: মি : দূরত্বে হওয়ায় এই হাসপাতলকে ঘিরে লালমনিরহাট বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে রূপান্তরিত করার সুযোগ এখন হাতছানি দিচ্ছে ।
চীন – বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল ঘিরে রংপুরের তিস্তা তীরবর্তী অঞ্চলের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের আবেগঘন এই আকুতি কতটা মূল্য পাবে সেটাই দেখার অপেক্ষা। তবে তাদের কথা ভেবে হাসপাতালটি তিস্তাপারে নির্মিত হলে বদলে যাবে তাদের জীবন – যাত্রা, উন্নত হবে জীবন যাত্রার মান।