


দিনাজপুর জেলায় প্রথমবারের মতো উপজেলা পর্যায়ে সফলভাবে অর্থোপেডিক বিভাগের ক্লোজড ইনট্রা মেডুলারি নেলিং ইন টিবিয়া অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ১০ টায় ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে এ অপারেশন পরিচালনা করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সোলাইমান হোসেন মেহেদী। এ সময় তার সহযোগী হিসাবে ছিলেন, অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ডা. আদনান আরাফাত ও ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সের সিনিয়র নার্স।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্স অপারেশন থিয়েটার চালু হওয়ার পর এই প্রথম অর্থোপেডিক বিভাগের ক্লোজড ইনট্রা মেডুলারি নেলিং ইন টিবিয়া অপারেশন সম্পন্ন হয়। মূলত এ অপারেশনে বড় ধরনের কোন কাটাছেঁড়া ও রক্তপাত ছাড়াই উন্নত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে সমপন্ন হয়।
রোগীর বড় ছেলে উপজেলার ওসমানপুরের বাসিন্দা আজাহার আলী জানান, প্রায় সাড়ে ৩ মাস আগে সড়ক দুর্ঘটনায় আমার বাবার পা ভেঙ্গে যায়। প্রথমে ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বগুড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে আবার এ হাসপাতালে একটি অপারেশন সম্পন্ন হয় এতে আমরা ভোগান্তি ছাড়া স্বল্প খরচে অপারেশন করাতে পেরেছি। সুষ্ঠুভাবে অপারেশন সম্পন্ন হয় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। উপজেলা পর্যায়ে এরকম অপারেশন সম্পন্ন হলে এলাকার মানুষ অনেক উপকৃত হবে।
ডা. সোলাইমান হোসেন মেহেদী জানান, “উপজেলা পর্যায়ে অর্থোপেডিক সার্জারি অনেক সময় জটিল ও ব্যয় সাপেক্ষ মনে করা হয়। কিন্তু আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষিত জনবলের সমন্বয়ে আমরা প্রমাণ করেছি, উপজেলা পর্যায়েও জটিল অপারেশন সম্ভব।” এই সাফল্যের মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে ভবিষ্যতে আরও উন্নত ও জটিল চিকিৎসা সেবা চালুর আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের চিকিৎসা খরচ এবং সময় দুটোই সাশ্রয় করবে বলে মনে করছেন সংশি¬ষ্টরা। তিনি আরো বলেন, ডাক্তার সংকটের কারণে মূলত এ ধরনের অপারেশনগুলো সব সময় করা সম্ভব হয় না। নিকট ভবিষ্যতে অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট সহ ডাক্তার সংকট দূর হওয়া সম্ভাবনা রয়েছে। তখন নিয়মিতভাবে এ ধরনের অপারেশন আমরা সম্পন্ন করতে পারবো।
উলে¬খ্য, স্থানীয়ভাবে এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় চিকিৎসা সেবা গ্রহণকারী রোগী ও তার পরিবার আনন্দিত। পাশাপাশি স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সের চিকিৎসক ও কর্মীরা এই অর্জনকে ঘোড়াঘাটবাসীর জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। অর্থোপেডিক অপারেশনের জন্য সাধারণত জেলার সদর হাসপাতাল কিংবা বিভাগীয় শহরের হাসপাতালের উপর নির্ভর করতে হতো। ঘোড়াঘাটে এই অপারেশন সম্পন্ন হওয়ায় আশপাশের এলাকার মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।