


অরক্ষিত রেলক্রসিং দিয়ে চলাচল করছে যানবাহন ও পথচারী ঝুকি থাকলেও নেই কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা, এমন চিত্র জেলার পাঁচ উপজেলার বিভিন্ন রেল ক্রসিংয়ের কোন ব্যারিকেড ও গেটম্যান না থাকায় পথচারীরা জানতে পারেন না কখন আসবে ট্রেন, এলাকাবাসীর অভিযোগ বিভিন্ন জায়গায় স্কুল কলেজ, বাজার ও হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকলেও নামমাত্র নোটিশ টাংগিয়ে দায়িত্ব শেষ রেল কর্তৃপক্ষের। কালীগঞ্জ উপজেলাসহ আরো চার উপজেলায় অবৈধ রেল ক্রসিং দিয়ে প্রতিনিয়ত পারাপার হচ্ছেন রেলওয়ের কর্তৃপক্ষ দায় সেরেছেন, লেভেল ক্রসিং গুলোতে সাবধানতা বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে, আর ফাঁকা পেয়ে রেললাইনের উপর দিয়ে তৈরি রাস্তা পার হতেই ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে মুছড়ে মুচড়ে গুলো ঝরে পড়ছে তাজা প্রাণ, শুধু পাটগ্রাম, হাতিবান্ধা, আদিতমারি বা কালীগঞ্জেই নয়, লালমনিরহাট ডিভিশন অফিস সূত্র জানা গেছে, এ বিভাগের আট জেলার যাচ্ছে যানবহন রেলক্রসিংয়ের মধ্যে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে ৩০৫টি। পাঁচশ’ ৪০ কিলোমিটার রেলপথের এসব রেলক্রসিংয়ে কোনো গেট কিংবা গেটম্যান না থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।
প্রাণহানির ঘটনা ঘটেই চলেছে। রেলওয়ে (পশ্চিম) লালমনিরহাটের অধীনে ৫২৫টি রেলক্রসিংয়ের মধ্যে রংপুরে ৪৫টি, লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলায় ২৫টি, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করেই সড়ক ও জনপথ, এলজিইডি, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ বিভিন্ন সময়ে রেল লাইনের ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করতে গিয়ে এসব লেভেল ক্রসিং সৃস্টি করেছে।কালীগঞ্জ উপজেলার একজন স্কুল পড়ুয়া ছাত্র রহিম মিয়া জানায়, আমরা প্রতিদিন স্কুল যাতায়াত করি, টিফিনের সময় খাইতে বাজারে যেতে হয় ঠিক ওই সময়ের ট্রেনটি চলে আসে, আমরা যখন খাবারের জন্য সাইকেলে বা হেঁটে যাই, যদি ট্রেন আসার কথা মনে না থাকে, তাহলে মহা মুসিবত হয়ে পড়ে, পা বাড়ালেই দেখি ট্রেন চলে আসছে, কারণ এখানে রাস্তা আছে, কোন গেটম্যান নাই, নামমাত্র সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রেখেছে তারা, পথচারীকে সাবধান করার জন্য।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট এলজিডি প্রকৌশলী কাওছার আলম জানান, রেল পথের উপর গ্রামীণ জনপদের এই রাস্তা গুলোর নিরাপত্তা দায়িত্ব রেল বিভাগের। তারপরও রোড গুলোতে রোড সেফটির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানা।
এ ব্যাপারে লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগীয় ডিআরএম বলেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করেই সড়ক ও জনপথ, এলজিইডি, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ বিভিন্ন সময়ে রেললাইনকে ক্রস করে রাস্তা নির্মাণ করে। যদিও এভাবে রাস্তা নির্মাণ করতে হলে রেলওয়ের অনুমোদন নেয়ার বিধান রয়েছে, কিন্তু সেটির কেউ তোয়াক্কাই করে না। আইন না মেনে যত্রতত্রভাবে রেল লাইনের উপর দিয়ে নির্মিত এইসব রাস্তার কোনো স্বীকৃতি নেই। রেলওয়ে পুলিশ জানায় গত এক বছরে অবৈধ রেল কোচিং পার হতে গিয়ে অরক্ষিত ক্রসিংয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে ৩৭টি, আহত হয়েছে ১৯৭ জন।