


কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে বউ-শাশুড়ির সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ ও সহযোগিতামূলক করার পাশাপাশি গ্রামীণ নারীদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যকে সামনে রেখে এক ব্যতিক্রমী আয়োজন ‘বউ-শাশুড়ি” মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে সোমবার (২০ অক্টোবর)দিনব্যাপী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলাটি আয়োজন করেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ। বাস্তবায়নে ছিলেন ল্যাম্ব হাসপাতাল এবং অর্থায়ন করেন জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)।
উপজেলা পঃ পঃ কর্মকর্তা নুরুল আমিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন কুড়িগ্রাম পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ -পরিচালক মোজাম্মেল হক।
বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সহকারী উপ-পরিচালক মেজবাহ উদ্দিন, ভূরুঙ্গামারী উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার শাফিউল ইসলাম, মেডিকেল অফিসার- মা ও শিশু স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, ভুরুঙ্গামারীর ডা. ফেরদৌসী বেগম, প্রজেক্ট ম্যানেজার এসআরএমএনসি আইচ ল্যাম্ব মোহাম্মদ আলী, ডিস্ট্রিক ফেসিলিটিটর -ইউ এনএফপিএ আসাদুজ্জামান সরকার, ডিএসআরএইচআরসি জেএপিএআইজিও ডা. সুমাশ্রী রায়, প্রজেক্ট অফিসার – এসআরএমএনসি আইচ ল্যাম্ব বাদল এক্কা, ডিস্ট্রিক ফেসিলিটিটর ল্যাম্প মঞ্জু আরা।
দিনব্যাপী মেলায় পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু স্বাস্থ্য, প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারির গুরুত্ব, কিশোর-কিশোরী স্বাস্থ্যসেবা, জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধসহ নানা বিষয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা হয়।
এছাড়াও অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছিল ভায়া টেস্ট, ডায়াবেটিস ও রক্ত পরীক্ষা, ফিস্টুলা কাউন্সেলিং এবং কিশোরী স্বাস্থ্যসেবা কর্নার, যা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।
পাইকেরছড়া গ্রামের শাশুড়ি সাহেরা ভানু ও তার পুত্রবধূ জোস্না বলেন, আগে গর্ভকালীন বা স্বাস্থ্যবিষয়ক বিষয়ে কথা বলতে সংকোচ বোধ করতাম। কিন্তু আজকের মেলায় এসে বুঝেছি মা ও শিশুর সুস্থতার জন্য এসব আলোচনা কতটা জরুরি।
প্রধান অতিথি মোজাম্মেল হক বলেন, পরিবার পরিকল্পনা ও মাতৃস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা তৈরি হলে পরিবার ও সমাজ উভয়ই উপকৃত হবে। গ্রামীণ নারীদের গর্ভকালীন ও স্বাস্থ্যসচেতন করতে এবং বউ-শাশুড়ির সম্পর্ক আরও মধুর করতে এ মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয় মকবুল ও শরীফ উদ্দিন বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ পারিবারিক সম্পর্ক মজবুত করার পাশাপাশি নারীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এমন মেলার আয়োজন আরও ঘন ঘন করা হলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
মেলায় দুই শতাধিক বউ-শাশুড়ি অংশগ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেন।