


তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে ঘোষিত “স্তব্ধ রংপুর” কর্মসূচিতে অংশ নেবে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ। তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটির উদ্যোগে আগামী ৩০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে ১১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলায় একযোগে এই কর্মসূচি পালিত হবে। এর আগে কাউনিয়ায় তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের ব্যানারে ফেব্রুয়ারি, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসজুড়ে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান কর্মসূচি, স্মারকলিপি প্রদান এবং মশাল মিছিলসহ একাধিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, কাউনিয়া রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার মানুষ একসঙ্গে দাঁড়াবে তিস্তা বাঁচানোর দাবিতে। ওই সময় উপজেলার অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, বাজার, যানবাহনসহ সব ধরনের কাজ ১৫ মিনিটের জন্য বন্ধ থাকবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কৃষক-শ্রমিক, ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিকসহ সর্বস্তরের মানুষ নিজ নিজ স্থানে দাঁড়িয়ে নীরব প্রতিবাদ জানাবেন। কাউনিয়ার তিস্তাপাড়ের সাধারণ মানুষও এখন এই আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় কৃষক মো. হাফিজুল ইসলাম বলেন, “তিস্তায় পানি না থাকলে আমাদের ফসল হয় না, জীবিকা চলে না। তাই ১৫ মিনিট থেমে থাকলেও তিস্তা বাঁচানোর দাবিতে আমরা একসঙ্গে দাঁড়াব।”
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জামিনুর রহমানের বলেন, তিস্তা আমাদের প্রাণ, আমাদের জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিস্তা শুকিয়ে গেলে শুধু নদী নয়—এই অঞ্চলের কৃষি, অর্থনীতি, জীববৈচিত্র্য সবকিছুই ধ্বংসের মুখে পড়বে। তাই তিস্তা বাঁচানোর আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়, এটি জনজীবনের অস্তিত্ব রক্ষার দাবি। তিনি আরও বলেন“আমরা কাউনিয়া উপজেলা বিএনপি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে ঘোষিত ‘স্তব্ধ রংপুর’ কর্মসূচিকে পূর্ণ সমর্থন জানাই।
তিস্তা বাঁচলে উত্তরাঞ্চল বাঁচবে—এই স্লোগানেই আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ।” উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সফিকুল আলম সফি বলেন ,তিস্তা শুধু নদী নয়, এটি আমাদের জীবনের অংশ। আজ তিস্তা শুকিয়ে যাচ্ছে, কৃষক হারাচ্ছে ফসল, শ্রমিক হারাচ্ছে কাজ। এই নদী বাঁচানো মানে উত্তরাঞ্চলের মানুষকে বাঁচানো। বিএনপি জনগণের এই আন্দোলনের পাশে আছে, এবং আগামী ‘স্তব্ধ রংপুর’ কর্মসূচিকে সফল করতে আমরা সর্বাত্মক ভূমিকা রাখব।” তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের সহ -সমন্বয়ক ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমদাদুল হক ভরসা বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নই উত্তরাঞ্চলের মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।
তিস্তা শুধু নদী নয়—এটি উত্তরবঙ্গের মানুষের জীবন, জীবিকা ও সংস্কৃতির প্রতীক। তিস্তা বাঁচলে উত্তরবঙ্গ বাঁচবে, তিস্তা বাঁচলেই বাংলাদেশ বাঁচবে।” তিনি আরও বলেন, সরকার যদি নভেম্বরের মধ্যে নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু না করে, তবে তিস্তাপারের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।