1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
পার্বতীপুরে কৃষকের রোপা আমনসহ সবজির ক্ষতির আশঙ্কা | দৈনিক সকালের বাণী
সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন

পার্বতীপুরে কৃষকের রোপা আমনসহ সবজির ক্ষতির আশঙ্কা

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৩৫ জন দেখেছেন
oppo_0

অকালে বৃষ্টি ও বাতাসে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে আমন ধানের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা। মৌসুমের শেষ সময়ে প্রাকৃতিক এই দুর্যোগ ৮১০ কৃষকদের হতাশাগ্রস্ত করে তুলেছেন। আগাম জাতের আলু ১৫ জন কৃষক এবং ৬৫ জন কৃষক সবজি চাষিরা দারুণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সম্প্রতি পার্বতীপুর উপজেলার ওপর দিয়ে মাঝারি বৃষ্টি ও বাতাসে নিচু জমির ৭৪ হেক্টর আমন ধান নুয়ে বা হেলে পড়েছে। সেই সাথে সবজি ৪ হেক্টর ও আলু ৩ হেক্টর খেত আক্রান্ত হয়েছে। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলার ১০ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ২৮ হাজার ৮ হেক্টর ৫২ জমিতে আমন চাষাবাদ হয়েছে। রবি সবজি চাষাবাদ হয়েছে ৫২৩ ও আলু ১০৫ হেক্টর।

বৃষ্টি এবং বাতাসে ৭৪ হেক্টর জমির ধান নুয়ে বা হেলে পড়েছে এবং সবজির ক্ষতি হয়েছে ৪ হেক্টর ও আলু ৩ হেক্টর। তবে, চাষিদের মতে এর পরিমাণ অনেক বেশি। ইতোমধ্যে নিচু জমির ও আগাম জাতের ধান পাকতে শুরু করেছে। বেশিরভাগ জমির ধান আধাপাকা হয়েছে। বিশেষ করে আলু চাষিরা আগাম জাতের ধান চাষ করে থাকেন। উপজেলার ৭নং মোস্তফাপুর ইউনিয়নের আমবাড়ী বড়দল গ্রামের শ্রী হাসদা বলেন, আমি বর্গাচাষি, বৃষ্টি এবং বাতাসে তাঁর চার বিঘা জমির পাকা আমন ধান নুয়ে পড়েছে এবং এক বিঘা জমির ধান পানিতে ডুবে গেছে। একই গ্রামের পরবী টুডু বলেন, অসময়ের এই বৃষ্টি ও বাতাস অনেক ক্ষতি করেছে। আমার ১ বিঘা রোপা আমন জমিতে নুয়ে পরায় গরু ও ছাগলকে কেটে দিয়েছি।

বড়দল গ্রামের মাতি মার্ডী বলেন, আমার ১ বিঘা জমির আধাপাকা আমন ধান বিছানার মতো সুয়ে বা নুয়ে পড়েছে। বাকি ১ বিঘা ফসল কেটে গরু-ছাগল কে খাওয়ানো হয়েছে। রামপুর ইউনিয়নের হুগলিপাড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফা বলেন, দুই বিঘা জমিতে জিরা ধান আবাদ করেছি। সেই রোপা আমন ধান এখন পানিতে ভাসছে। অসময়ের এই বৃষ্টি ও বাতাসে জিরা আবাদ করে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। উপজেলার ৬ নং মোমিনপুর বড় হরিপুর ম্যাড়েয়া এলাকার অনেক আলু চাষি বলেন, ইতোমধ্যে কৃষকরা জমি আলু চাষের জন্য প্রস্তুত করেছেন।

হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ায় তার সব শেষ হয়ে গেছে। এখন আলু লাগাতে তাকে আর অপেক্ষা করতে হবে। ৩নং রামপুর ইউনিয়নের বাসুপাড়া গ্রামের আবু সালেম বলেন, চলতি রবি মৌসুমে তিনি ১ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ, মরিচ এবং ১ বিঘা জমিতে কফি চাষ করেছেন। অসময়ে বৃষ্টি ও বাতাসে তার সব ফসল বিনষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে জমি প্রস্তুত করতে অনেকদিন অপেক্ষা করতে হবে। পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর বলছে, কৃষকদের সতর্ক ও পরামর্শ দেওয়ার পর কৃষকেরা তাদের জমিতে হেলে পড়া ধান খোঁপা (আঁটি) করে বেঁধে দিচ্ছেন। ফলে হেলে পড়া ধানের গাছগুলো দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে পাকা ধানের পাশাপাশি আধাপাকা ধানের গাছও হেলে পড়ে সীমাহীন ক্ষতি হয়েছে।

এ ব্যাপারে পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. রাজিব হুসাইন বলেন, এটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, এখনো আসলে মানুষের করার কিছু নেই। এই মুহূর্তে আমন ধানের ক্ষয়-ক্ষতি এখন নিরূপণ করা যাবে না। অসময়ে বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে প্রায় ৭৪ হেক্টর আমন ধান হেলে নুয়ে পড়েছে এবং ৮ হেক্টর রবি সবজি খেত আক্রান্ত হয়েছে। কৃষকরা জমিতে থাকা পানির ওপর হেলে পড়া ধানের গাছ দ্রুত সময়ের মধ্যে আঁটি মতো করে বেঁধে দিতে পারলে ধান নষ্টের হাত থেকে রক্ষা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )