
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার ১নং নাফানগর ইউনিয়নের সেনিহারি গ্রামের মৃত সামসুল আলমের ছেলে হিরু ইসলাম (৩৭) প্রস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। দুইটি ছোট সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে গড়া পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। হঠাৎ ধরা পড়া কঠিন রোগে বর্তমানে পরিবারটি চরম সংকটে পড়েছে।
পরিবারসূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড়ের কাজী ফার্মে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন হিরু ইসলাম। অল্প আয়েই কোনোমতে সংসার চললেও গত জুন মাসে তার শরীরে প্রস্টেট ক্যান্সার ধরা পড়ে। শুরুতে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে কলকাতার ঠাকুরপুকুরের সরোজ গুপ্ত ক্যান্সার সেন্টারে নেওয়া হয়।
এ পর্যন্ত চিকিৎসার পেছনে সঞ্চয়, ধারদেনা, গরু-ছাগল বিক্রি করে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ করেছেন পরিবার। এখন আর কোনো উপায় নেই। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চিকিৎসা চালিয়ে যেতে জরুরি ভিত্তিতে আরও প্রায় ২ লাখ টাকা প্রয়োজন। এই অর্থ যোগাড় না হলে যে কোনো সময় চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
হিরুর স্ত্রী সিমা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “স্বামীকে বাঁচাতে যা ছিল সব দিয়েছি। এখন মানুষের সহযোগিতা ছাড়া আর বাঁচার পথ নেই।” প্রতিদিন বাবার খোঁজে কাঁদে তাদের দুই সন্তান। তারা শুধু জানতে চায়— “আমাদের বাবা কবে বাড়ি আসবে?” কিন্তু মা জানেন না এই প্রশ্নের উত্তর কবে দিতে পারবেন।
এ অবস্থায় একটি পরিবার ভেঙে যাওয়ার আগেই সমাজের হৃদয়বান মানুষের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন তারা। অল্প সাহায্যও হিরু ইসলামের জীবন রক্ষা করতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
Related