


দিনাজপুরের বিরলে বিজিবির নবনির্মিত মৌ চোষা বিওপির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ফিতা কেটে ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে মৌ চোষা বিওপির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রংপুর উত্তর-পশ্চিম রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএসএম নাছের (পিএসসি, জি+)। উদ্বোধন শেষে বিওপি প্রাঙ্গণে একটি আম গাছের চারা রোপণ করেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, বিজিবি সদস্যরা দিবা-রাত্রি ২৪ ঘন্টা সকল প্রতিকূল পরিবেশে মাতৃভূমি রক্ষায় মহান দায়িত্ব পালন করে আসছে।
সীমান্ত দিয়ে দুষ্কৃতিকারী যেন কোনো অবৈধ অস্ত্র নিয়ে এসে দেশের ভিতর অরাজকতা সৃষ্টি করতে না পারে তা নিয়ন্ত্রণ ও রোধে আমরা বদ্ধপরিকর ও সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি। এছাড়াও সীমান্ত এলাকা দিয়ে জ্বালানি ও ভোজ্য তেলের পাচার প্রতিরোধে চেকপোস্ট স্থাপন এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিজিবি সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে সংকল্পবদ্ধ এবং স্বাভাবিক রাখতে সর্বদা কাজ করেছে, করছে এবং কাজ করে যাবে ইনশাল্লাহ।
দেশের সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব ও কর্তব্য সুচারুরূপে পালন করার জন্য বস্তুনিষ্ঠ তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে সকলের সহযোগিতা একান্ত কাম্য। তিনি বলেন, অতীতের মতো ভবিষ্যতেও স্থানীয় জনগণ, সংবাদকর্মী ও সুশীল সমাজ এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন। আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নব-স্থাপনকৃত মৌ চোষা বিওপির মাধ্যমে সীমান্ত সুরক্ষাসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সক্ষম হবে।
বিজিবি সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক হিসেবে নিরলসভাবে কাজ এবং সার্বক্ষণিক দেশের সীমান্ত রক্ষা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিজিবি, উত্তর পশ্চিম রিজিয়ন, রংপুরের আওতাধীন দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) দেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৯৯ কিঃমিঃ সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পালন করছে। এই ব্যাটালিয়নের কিশোরগঞ্জ ও রামচন্দ্রপুর বিওপির মধ্যবর্তী এলাকায় আভিধানিক কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে শূন্যরেখার নিকটবর্তী এলাকায় চোরাচালান রোধ এবং সীমান্ত রক্ষায় মৌচোখা নামক স্থানে “মৌচোষা বিওপি” স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
বিওপি উদ্বোধনের পর আভিধানিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন, মাদক পাচাররোধ, নারী ও শিশু পাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধসহ বিভিন্ন আন্তঃ সীমান্ত অপরাধসমূহ দমন আরো বেগবান হবে ও সীমান্তে আস্থার পরিবেশ সমুন্নত থাকবে। এছাড়া সীমান্তে নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও জোরদার হবে। তিনি আল্লাহর নিকট বিওপিটি’র সার্বিক মঙ্গল ও কল্যাণ কামনা করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজিবি দিনাজপুর সেক্টরের অধিনায়ক কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান, (বিজিবিএম, পিবিজিএম, পিএসসি) ও দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসানসহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।