


তীব্র শীতের কারণে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তার কোলঘেষা চরাঞ্চলের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। খোলা চর, নদীর হিমেল বাতাস এবং পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে এসব এলাকার মানুষ দিন দিন আরও বিপাকে পড়ছেন। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও নারীরা শীতের সবচেয়ে বড়ো ঝুঁকিতে রয়েছেন। রাত গভীর হলে তাপমাত্রা আরও কমে যায়, ফলে অনেকের জন্য রাত কাটানো হয়ে ওঠে অত্যন্ত কষ্টকর।
এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তিস্তা চরাঞ্চলে ঘুরে ঘুরে অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন গঙ্গাচড়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা–সংক্রান্ত কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সজীবুল করিম।
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তারা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা, দরিদ্র পরিবার, বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থী এবং দুর্গম চরাঞ্চলের অসহায় মানুষদের হাতে কম্বল তুলে দেন। শীতের ঝুঁকিতে থাকা শিশু, বৃদ্ধ ও নারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। কম্বল পেয়ে চরাঞ্চলের মানুষের মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তির হাসি। এক মোখলেছুর রহমান বলেন, এই শীতডা খুব কষ্টের। রাতে হাত-পা এমন জমে যাইত যে ঘুমই হইত না। কম্বল পাইয়া এখন শরীরটা একটু ভালো লাগতেছে।আরেক মহিলা আরতি বেগম বলেন,নদীর ধারে বাতাসডা খুব ঠান্ডা। শীতের রাতে অনেক কষ্ট আছিল। ইউএনও দিদি আইসে কম্বল দিছে, এতে বড়ো উপকার হইছে।
স্থানীয়দের মতে, শুধু শীতবস্ত্র নয়, প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিজেরা গভীর রাতে দুর্গম চরে এসে মানুষের পাশে দাঁড়ানোয় তারা মানসিকভাবেও সাহস পেয়েছেন। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শীতবস্ত্রের বরাদ্দ সীমিত হলেও প্রকৃত উপকারভোগীদের শনাক্ত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে, যাতে শীতের কারণে কেউ অসহায় অবস্থায় না পড়ে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন,তিস্তা চরের মানুষ শীতে সবচেয়ে বেশি কষ্টে থাকে। বরাদ্দ সীমিত হলেও আমরা চেষ্টা করছি, যেন কেউ শীতের কষ্টে অসহায় না থাকে।