1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
পীরগঞ্জে জয়ন্তীপুর সেতু নির্মাণ কাজ নিয়ে শঙ্কায় এলাকাবাসী | দৈনিক সকালের বাণী
শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন

জটিলতায় ৬ বছর: পীরগঞ্জে জয়ন্তীপুর সেতু নির্মাণ কাজ নিয়ে শঙ্কায় এলাকাবাসী

আকতারুজ্জামান রানা, পীরগঞ্জ (রংপুর)
  • আপলোডের সময় : বুধবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১২৫ জন দেখেছেন

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার সাথে পার্শ্ববর্তী জেলা দিনাজপুরের তিন উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পথের করতোয়া নদীর ওপর জয়ন্তীপুর ঘাটে নির্মাণাধীন সেতুটি নির্ধারিত সময়ে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়া নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে আবারও সংশয় ও গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নির্মাণ শুরুর প্রায় দেড় বছরেও সেতুটির মুল কাঠামো ও সংযোগ সড়কের প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। ফলে এ সংশয় দেখা দিয়েছে। ২০১৯ সালে কাজ শুরুর পর দফায় দফায় নানা ধরনের জটিলতায় সাড়ে ছয় বছরেও আলোর মুখ দেখেনি সেতুটি। আসন্ন বর্ষা মওসুমের আগে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন না হলে আবারও ঝুলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

জানা গেছে, বিভাগীয় শহর রংপুরের সাথে দিনাজপুর জেলার দক্ষিণের তিনটি (ঘোড়াঘাট, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর) উপজেলার যোগাযোগ সহজ করতে করতোয়া নদীতে রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার টুকুরিয়া ইউনিয়নের জয়ন্তীপুর ঘাটে ২০১৫ সালে ২০৪ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। নানা জটিলতার পরে ২০১৯ সালে সেতুটি নির্মাণের কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পিপিএল। পরবর্তী সময়ে ঠিকাদার মৃত্যুবরণ করলে ২০২৩ সালে বন্ধ হয়ে যায় সেতুর নির্মাণ কাজ। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার পর পুনরায় দরপত্র আহ্বান করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। ২০২৪ সালের মে মাসে পটুয়াখালী জেলার একে- এসবি-এমএ (জেভি) নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২২ কোটি ২৪ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৬ টাকা সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সেতু নির্মাণের কাজ পায়। সময় নির্ধারণ করা হয় ২০ মাস, সেই মোতাবেক ২৬ সালের মার্চ মাসে সেতু নির্মাণের সময় শেষ হওয়ার কথা।

সরেজমিন সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা যায় সেতুর মাত্র ৬০/৬৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। সংযোগ সড়কের কাজ এখনও শুরুই করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
মাত্র কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে চলছে সেতুর বাকি থাকা গার্ডার শাটারিংয়ের কাজ। ¯’ানীয়দের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে নির্মাণ কাজ শেষ না হলে আবারও জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হবে। দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা নুর ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর দ্বিতীয় দফায় কাজ শুরু হলেও সঠিক সময়ে কাজ শেষ হবে বলে মনে হয়না। ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন “এই ঘাট দিয়েই দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট, নবাবগঞ্জ ও হাকিমপুর উপজেলার সাথে পীরগঞ্জ হয়ে বিভাগীয় শহর রংপুরে যাতায়াত করি। ফলে দুরত্ব কম হওয়ার কারণে সময় অনেক কম লাগে। কাজের বিলম্বে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।

মনে হচ্ছে সময়মতো এবারও কাজ শেষ হবে না।” পীরগঞ্জ উপজেলার জয়ন্তীপুর, তরফমৌজা গ্রামের সবুজ ও আরিফুল ইসলামসহ কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, সঠিক তদারকি না থাকায় কাজের মান নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। অনেকে বলছেন, কাজ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে এলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের গতি বাড়ানোর কোনো চেষ্টাই চোখে পড়ছে না। প্রকল্পের ঠিকাদারি সংস্থার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ইতোমধ্যে সেতুর ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আর ৫টি গার্ডার ও দুটি স্লাব ঢালাইয়ের কাজ বাকি আছে। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সংযোগ সড়কের কাজ বন্ধ আছে। তিনি আরও বলেন, “যদিও কিছুটা দেরি হয়েছে, আমরা এখন অতিরিক্ত শ্রমিক দিয়ে চেষ্টা করছি। আশা করছি নির্ধারিত সময়েই কাজ শেষ করা হবে।” উপজেলা প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান বাপ্পী জানান, পীরগঞ্জ অংশের ভূমি অধিগ্রহণ শেষ হলেও দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ অংশের সংযোগ সড়কের ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। মূল সেতু নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে। নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি ।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )