
রংপুর-১ আসনে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. রায়হান সিরাজী বলেছেন, ফ্যাসিবাদের কবর রচনা ও ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।
সোমবার বিকেলে গঙ্গাচড়া উপজেলায় ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত গণমিছিল ও পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থাকে গলা চেপে ধরা হয়েছিল । তিনি দাবি করেন, এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় আধিপত্যবাদী রাজনৈতিক সাংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা ও নীতিনির্ধারণী মহলে ও নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার লাভ করেছিল , যা দেশের সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে ।
রায়হান সিরাজী বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট শুধু একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, ভবিষ্যত বাংলাদেশ বিনির্মাণের মাপকাঠিও : এটি বিদেশি আধিপত্য বিস্তার রোধ, দুর্নীতি পরায়ন ও দীর্ঘস্থায়ী শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে জনগণের সম্মিলিত মত প্রকাশের মাধ্যম। তিনি আরও বলেন, সেচ্ছাচারি শাসন ব্যবস্থা ক্ষমতা কেন্দীভূত করণ ও গণতান্ত্রীক শাসন ব্যবস্থায় ভারসাম্য নষ্ট করে এবং জনগণের অংশগ্রহণ সীমিত করে দেয়।
তিনি দাবি করেন, রংপুর-১ আসনে পরিবর্তনের পক্ষে জনসমর্থন ধীরে ধীরে বাড়ছে । এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে তিনি একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি শান্তিপূর্ণ আচরণ ও নির্বাচনী বিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।
গণমিছিল গঙ্গাচড়া সরকারি কলেজ এলাকা থেকে শুরু হয়ে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জিরো পয়েন্টে এসে শেষ হয়। মিছিলে ১০ দলীয় জোট ও জামায়াতে ইসলামীসহ শরিক দলগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। মিছিল চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
সমাবেশে অন্যান্য বক্তারা বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বা সংঘাত এড়িয়ে চলা জরুরি। তারা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান এবং ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ তৈরির দাবিও জানান।
বক্তারা আরও বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইন ও নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলাই সকল প্রার্থী ও সমর্থকদের দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে দলীয় নেতাকর্মীদের সংগঠিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে মাঠে থাকার আহ্বান জানানো হয়।
Related