
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া ও সিটি কর্পোরেশন ১–৯ ওয়ার্ড) আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলী দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত মামলার কারণে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকতে পারছেন না। সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার তার আপিল খারিজ করার পর বিষয়টি চূড়ান্ত হয় ।
রংপুর-১ আসনের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলীর দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অযোগ্যতা আদালতে বহাল থাকায় তিনি নির্বাচনে আর অংশ নিতে পারবেন না। বিষয়টি চূড়ান্ত হলো মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি), সুপ্রিম কোর্ট তাঁর আপিল খারিজ করে দেয়।
সুপ্রিম কোর্টের কেস হিস্ট্রি অনুযায়ী, Civil Misc Petition নং–৬১/২০২৬ মামলাটির শুনানি শেষে বাতিল করা হয়। ফলে দ্বৈত নাগরিকত্বজনিত অযোগ্যতা পুনঃপ্রযোজ্য হলো এবং নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী প্রার্থী বৈধতার বিষয়টি পরিবর্তন হয়ে যায়।
এ প্রসঙ্গে জানা গেছে, গত ১ জানুয়ারি ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলী মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় রংপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী, প্রার্থীর হলফনামায় ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য থাকলে মনোনয়ন বাতিলের সুযোগ থাকায় এই সিদ্ধান্ত দেয় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা।
এরপর ৫ জানুয়ারি ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলী নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে, কমিশন উভয় পক্ষের বক্তব্য ও দাখিলকৃত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন এবং নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেন।
তবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোকাররম হোসেন সুজন নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দসহ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। দাখিলকৃত রিট পিটিশন আমলে নিয়ে হাইকোর্ট পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রংপুর-১ আসনে নির্বাচন কার্যক্রম স্থগিত রাখার আদেশ দেন। বিষয়টি পরে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছালে আদালত রিট খারিজ করেন এবং হাইকোর্টের আদেশ বহাল থাকে। ফলে ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলীর প্রার্থিতা চূড়ান্তভাবে বাতিল বলে গন্য হয়।
তবে, নির্বাচনী জোটগত কারণে বর্তমানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা বেশ জোরেসোরে নির্বাচনী কর্যক্রম পরিচালনা করছে। অপরদিকে বিএনপি ও জোটবদ্ধ দলের নেতাকর্মীরাও ভোটের মাঠে বেশ সরব ভূমিকা পালন করছে।
নোহালী ইউনিয়নের সর্দার পাড়ার ভোটার শাহিনুর ইসলাম, গঙ্গাচড়ার ভোটার মানিক মিয়া, বড়বিল ইউনিয়নের রাজু মিয়া, গজঘন্টা ইউনিয়নের রুবেল মিয়া বলেন, জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মন্জুম আলীর প্রার্থীতা বাতিল হওয়ায় কোন দলের সুবিধা বাড়বে তা নির্ণয় করা কঠিন। তবে রংপুর -১ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লাঙ্গল মার্কা না থাকায় রাজনৈনিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ভোটার উপস্থিতি কমে যেতে পারে বলে অনেকেই সংশয় প্রকাশ করছেন।
রংপুর – ১ আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মন্জুম আলীর প্রার্থীতা বাতিলের বিষয়ে তাঁর ভাই আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, আমার ভাইকে নির্বাচন কমিশন বৈধতা এবং প্রতিক দেয়ার পরেও, হাইকোর্ট বিএনপির বিজ্ঞ আইনজীবিদের চাওয়ায় প্রার্থীতা বাতিল করেছে। একই সমস্যা থাকা সত্বেও অনেক প্রার্থী বৈধতা পেয়েছে। এই রায়ে প্রমাণিত হয়েছে আওয়ামী শাসনামলে যেমন কোর্টের রায় আগেই নির্ধারিত হত এখন বিএনপি পরোক্ষভাবে কোর্টর রায় নির্ধারণ করছে। এই রায়কে ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না।
রংপুর -১ আসনে লাঙ্গলের প্রার্থী বাতিল হওয়ায় বাংলাদেশ জাময়াতে ইসলামীর জন্য ভোটে কতটা ইতিবাচক হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে গঙ্গাচড়া উপজেলা বিএনপি সভাপতি চাঁদ সরকার বলেন,লাঙ্গলকে আমরা কখনো প্রতিযোগী প্রতিক হিসেবে বিবেচনা করি নাই।সাধারণ ভোটাররা অবশ্যই আমাদের ভোট দিবে।
জাপা প্রার্থী বাতিল হওয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র ভোটে কতটা সুবিধা বা অসুবিধার জায়গা তৈরী হবে এমন প্রশ্নের জবাবে উপজেলা জামায়াতের আমির নায়েবুজ্জামান বলেন, আমরা জনগণের ভোটে বিশ্বাসী। সেখানে কোন প্রার্থী বাতিল হওয়ায় আমাদের খুশি হওয়ার কিছু নাই বরং আমরা মনে করি প্রতিযোগিতার জায়গাটা সংকীর্ণ হয়ে গেল।
Related