


নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে শুভ কাজের (বিয়ে) দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট – ২০২৬ এর দিনে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন এক যুবক। আর ওই যুবকের নাম মো. সামিউল ইসলাম (২৮)। তাঁর বাড়ি শহরের নিয়ামতপুর সরকারপাড়ায়।
বিয়ের বর বেশে ভোট কেন্দ্রে এসে বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট দিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছেন তিনি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার ছয় নম্বর ওয়ার্ডের নিয়ামতপুর সরকারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. মনজুরুল ইসলামের ছেলে সামিউল ইসলাম। সে গত ২০১৮ সালের প্রথম ভোটার হয়। এর পর জীবনের প্রথম ভোট দিতে গিয়ে জানতে পারে কে বা কারা তাঁর ভোট দিয়েছেন। তাই সে সময় জীবনের প্রথম ভোট দিতে গিয়েও নিজে ভোটটি দিতে না পেরে চরম ব্যতিত হন। আর সেই আক্ষেপ ও মনের ক্ষোভে গত ২০২৪ সালেও আর ভোট দিতে কেন্দ্রে যাইনি তিনি। সম্প্রতি তাঁর বিয়ের কথাবার্তা চলছিল। এর এক পর্যায়ে সৈয়দপুরের পার্শ্ববতী রংপুরের তারাগঞ্জে তাঁর বিয়ে ঠিক হয়।
বিয়ের ধার্য তারিখ ছিল গতকাল ১২ ফেব্রুয়ারি। আর ওই দিন ছিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও গণভোট -২০২৬। এ অবস্থায় সে সিদ্ধান্ত নেয় ভোট দিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন। যেই সিদ্ধান্ত, সেই কাজ। গতকাল বেলা ১২টার দিকে পৌরসভা ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্র সৈয়দপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোট দিতে আসেন তিনি। এ সময় তাঁর পরণে বিয়ের শেরওয়ানি, মাথায় পাগড়ি পরা। ভোট দেওয়ার পরে সামিউল বরযাত্রীর বহর নিয়ে বিয়ের জন্য কনের বাড়িতে উদ্দেশ্যে রংপুরের তারাগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন।
ভোট দেওয়ার পর সামিউল ইসলাম ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের বলেন, জীবনের প্রথম ভোট ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রয়ারি প্রদান করবো এবং ভোটের দিন মহা ধুমধামে বিয়ে করে ঘরে নতুন বউও তুলবো এ সিদ্ধান্ত গ্রহন করি। তাই পরিবারের সকলের সঙ্গে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে আজ আমার জীবনের স্বপ্ন পুরণ করলাম। সামিউল আরও জানান ভোট শুধু অধিকার নয়, একটি পবিত্র আমানতও বটে। জীবনের যে কোনো ব্যস্ত সময়ে, এমনকি আজকের মতো ব্যক্তিগত আনন্দের দিনেও আমি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পেরে নিজেকে অনেক ধন্য মনে করছি। তাই আগে ভোট পরে বিয়ে।
কেন্দ্রে উপস্থিত নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা, অন্যান্য ভোটার ও প্রতিবেশিরা তার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সামিউল ইসলাম সত্যিই অনুপ্রেরণার উদাহরণ। আজ তার মতো যুবককে দেখে আমাদেরও উৎসাহ বাড়লো, যাতে আমরা সকলে দায়িত্বের সঙ্গে ভোট দিতে আসি।