1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
বদরগঞ্জ পৌরসভার সচিব সাময়িক বরখাস্ত | দৈনিক সকালের বাণী
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ০২:০৩ পূর্বাহ্ন

দরপত্রে কেলেঙ্কারি: বদরগঞ্জ পৌরসভার সচিব সাময়িক বরখাস্ত

বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৭৯ জন দেখেছেন

দুর্নীতি ও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে রংপুরের বদরগঞ্জ পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) মো. মশিউর রহমানকে সাময়িকভাবে চাকুরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তৃতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা হলেও ক্ষমতার দাপটে এর আগে তিনি নীলফামারী পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (গ শ্রেণিভুক্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় গত ৯ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এর পৌর-১ শাখার সচিব রেজাউল মাকসুদ জাহেদীর স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মো. মশিউর রহমান নীলফামারী পৌরসভার তত্বাবধানে পরিচালিত পৌর সুপার মার্কেটের ৮১টি দোকান বরাদ্দের দরপত্র আহবান করেন। দরপত্র মূল্যায়নে তিনি নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৫৪টি দোকান ঘর বরাদ্দে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নেন। তদন্তে ওই দরপত্র প্রক্রিয়ায় তৎকালীন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তিনি এবং একই পৌরসভার কর আদায়কারী মো. আনোয়ার হোসেনের সংশ্লিষ্টতা একাধিকবার তদন্তে প্রমাণিত হয়। এ নিয়ে সেখানে চরম বিতর্ক সৃষ্টি হলে কৌশলে তিনি ওই ঘটনার তদন্ত চলাকালীন অবস্থায় রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের বদলীর আদেশে গত ২২ জানুয়ারি বদরগঞ্জ পৌরসভার যোগদান করেন।

অভিযোগের সুত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি তার নিকটাত্মীয়দের নামে নীলফামারী পৌর সুপার মার্কেটের একাধিক দোকান আত্মসাতের অপচেষ্টাও চালান। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি হাতিয়ে নেন মোটা অঙ্কের টাকা। পরবর্তীতে ওই মার্কেটে পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হলে তার প্রত্যক্ষ মদদে একটি বাণিজ্যিক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করা হয়। এসব কর্মকাণ্ডে সে সময় এলাকায় ব্যাপক জনঅসেেন্তাষ সৃষ্টি হয়।

এর আগে তিনি ১৯৯৬ সালের ১ আগস্ট নাইন টাউন প্রজেক্ট নামে একটি প্রকল্পের সোশ্যাল অর্গানাইজার হিসেবে রংপুর পৌরসভায় যোগদান করেন। সেখানে তিনি বিধি বহির্ভূতভাবে পৌরসভার প্রশাসনিক পদে পদোন্নতি নেন। সে সময় রংপুর পৌরসভায় (বর্তমান সিটি করপোরেশন) দায়িত্ব পালনকালে তার নামে ৪০ লাখ টাকার আপ্যায়ন বিল তুলে আত্মসাত করার ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়।
তার এসব অনিয়মের কারণে নীলফামারী পৌরসভার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়েছে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়।

মোঃ মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তার কার্যকলাপ পৌরসভার কর্মচারী চাকরি বিধিমালা ( ১৯৯২ এর বিধি ৪০ এর উপ-বিধি (ক), (খ), (গ), (ঘ) ও ঙ) অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসদাচরণ, দুর্নীতিপরায়ণতা ও প্রতারণার শাস্তি যোগ্য অপরাধের অন্তর্ভুক্ত। একই বিধিমালার ৪৬ (১) ধারা অনুযায়ী গুরু দণ্ডের সম্ভাবনা থাকায় তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘আমি নির্দোষ। এগুলো আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে করা হচ্ছে। একটি পক্ষ আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য নানাভাবে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। আমি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করবো।

পৌরসভার প্রশাসক ও বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আঞ্জুমান সুলতানা বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করেই তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখানে আমাদের করনীয় কিছু নেই।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )