


দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলাজুড়ে আমগাছে মুকুলের সমারোহ দেখা দিয়েছে। সবুজ পাতার ফাঁকে হলুদ রঙের মুকুলে ছেয়ে গেছে ডালপালা। বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছে মুকুলের মিষ্টি সুবাস মৌমাছির গুঞ্জন আর পাখির কিচিরমিচিরে মুখর হয়ে উঠেছে আমবাগানগুলো।
মৌসুমের শুরুতেই অনুকূল আবহাওয়ার কারণে অধিকাংশ গাছে আগাম মুকুল এসেছে। ছোট গাছের তুলনায় মাঝারি ও বড় গাছে মুকুলের পরিমাণ বেশি লক্ষ্য করা গেছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে প্রায় ৪৫১ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আমের আবাদ রয়েছে। পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই রয়েছে কয়েকটি করে আমগাছ। এ অঞ্চলে রুপালি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ফজলি ও হাঁড়িভাঙা জাতের আম বেশি চাষ হয়। আগাম মুকুলে খুশি আমচাষীরা এখন গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
স্থানীয় আমচাষি রহিমুল ইসলাম বলেন, “গত বছরের তুলনায় এ বছর গাছে মুকুলের পরিমাণ অনেক বেশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলনের আশা করছি।” অপর চাষি মজনু মিয়া বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার বাম্পার ফলন হতে পারে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নয়ন কুমার সাহা বলেন, মুকুল রক্ষায় নিয়মিত পরিচর্যা, গাছের গোড়ায় সেচ প্রদান, প্রয়োজন অনুযায়ী ছত্রাকনাশক প্রয়োগ এবং পোকামাকড় দমন অত্যন্ত জরুরি। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে ফুল ঝরে পড়ার আশঙ্কা থাকে। উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বোচাগঞ্জ উপজেলায় ৭ হাজার ১৬৪ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যা অব্যাহত থাকলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।