


নীলফামারী জেলার ডোমারে এক ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ১৪টি পরিবারের ৪০টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুক্রবার বিকালে উপজেলার ডোমার সদর ইউনিয়নের শাহারুদ্দীন পাড়ায় এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। খবর পেয়ে রািেত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার এবং ডোমার উপজেলা নির্বাহী অফিসার শায়লা সাঈদ তন্বী। এ সময় একজন ব্যক্তি বৈদ্যুতিক শকে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। অগ্নিকাণ্ডে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা বলেন, বিকালে মনজুর আলীর প্রিপেইড মিটার থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়ে তা মুহুর্তেই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ১৪ টি পরিবারের সকল ঘর ও ঘরের ভিতর থাকা সকল জিনিস পত্র,টাকা,সোনা পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ সময় ডোমার ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে ডোমার ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ও দেবিগঞ্জের একটি ইউনিটসহ তিনটি ইউনিট তিনঘন্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণ আনলেও এরেই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সর্বোচ্চ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। স্থানীয় লুৎফর রহমান বলেন, ডোমার ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে তারা আধাঘন্টা পর ঘটনাস্থলে আসলেও পাইপ দিয়ে পানি বের করতে পারছিলেন না। পরে আরো দুইটি ইউনিট আসার পর তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু তার আগেই আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। ডোমার ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন অফিসার মো:মমতাজুল ইসলাম আগুন লাগার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আগুনে ১৪টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানির উৎস্য না থাকায় আগুন নেভাতে সময় লেগেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত সামিনা বেগম বলেন, আমার মেয়ের বিয়ের জন্য সোনা-রুপার অলংকার ও দুই লাখ টাকা ছিল ঘরের মধ্যে। আগুনে আমাদের সব পুড়ে গেছে। আমরা কোন কিছুই বের করতে পারিনি। খবর পেয়ে রাতে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী ও নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আব্দুস সাত্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে কাপড় ও শুকনো খাবার বিতরন করেন। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন- আফিজ উদ্দীনের তিন ছেলে ইসমাইল হোসেন, রেজারুল ইসলাম ও আজিজুল ইসলাম; ইসমাইল হোসেনের দুই ছেলে নজরুল ইসলাম ও মজিদুল ইসলাম; মফিজ উদ্দীনের ছেলে ইসহাক আলী; আব্দুল হকের ছেলে মনজুর আলী ও মেয়ে আছিমা বেগম; মৃত বাবু পাগলার ছেলে আশিকুল ইসলাম; ইসহাক আলীর তিন ছেলে স্বপন, রিপন ও আব্দুর রউফ; এছাড়া আজিজুল ইসলামের ছেলে সামিনুর এবং আখতারুলের ছেলে জামিরুল।