


রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার ১নং বেতগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাইমিন ইসলাম মারুফের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা। একই দাবিতে বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন এনসিপি, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মী, ইউপি সদস্য ও স্থানীয় জনগণ।
জানা যায়, বেতগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক ইউপি সদস্য স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে চেয়ারম্যানের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে তাকে অপসারণের দাবি জানানো হয়। স্মারকলিপিটি রংপুর জেলা প্রশাসকের কাছে দাখিল করা হয়েছে। এতে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দমন-পীড়ন ও নানা অপকর্মের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।
ইউপি সদস্যদের অভিযোগ, তিনি অতীতে স্বৈরাচারি কায়দায় এলাকাবাসীর ওপর হামলা-মামলা, মারামারি ও লুটপাটের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। এছাড়া ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালানো এবং ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করার অভিযোগও রয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও চলমান রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
এদিকে অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন এনসিপির গঙ্গাচড়া উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী রিফাত চৌধুরী ও যুগ্ম সমন্বয়কারী মাসুদ রানা তৈয়ব, যুগ্ন সমন্বয়কারী (দপ্তর) জীবন হোসাইন। প্রধান সমন্বয়কারী রিফাত চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার পরও কীভাবে জুলাইয়ের আন্দোলনের এতদিন পর তিনি আবার চেয়ারম্যান হিসেবে ফিরে আসেন? কেনই বা তাকে পূনর্বহাল করা হচ্ছে এটা সাধারণ মানুষের কাছে বড় প্রশ্ন।
অন্যদিকে যুগ্ম সমন্বয়কারী মাসুদ রানা তৈয়ব বলেন, জনগণের রায় ও আন্দোলনের চেতনার বিরুদ্ধে গিয়ে এমন সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত তাকে অপসারণ করে নিরপেক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
অনশন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা জানান, চেয়ারম্যানের প্রতি জনগণের আস্থা নেই এবং তিনি একজন চিহ্নিত আওয়ামীলীগ হওয়ায় তাকে অপসারণ করা না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।
স্মারকলিপিতে ইউপি সদস্যরা ইউনিয়ন পরিষদ আইন অনুযায়ী বর্তমান চেয়ারম্যানকে অপসারণ করে প্যানেল চেয়ারম্যান অথবা প্রশাসনের মাধ্যমে দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে করে ইউনিয়নবাসীর ভোগান্তি দূর হয়।
বেতগাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, আমি আওয়ামীলীগ ছিলাম, বিএনপিতে যোগদানের মাধ্যমে নিশ্চয়ই আমার পূর্বের রাজনৈতিক পরিচয় মুছে গেছে। আমি জনগণের প্রত্যক্ষভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যান।
প্রেক্ষাপটের কারণে যেমন সরকারী নির্দেশনায় আমাকে অপসারণ করা হয়েছিল একইভাবে সরকারি নির্দেশনায় আমাকে পূনর্বহাল করা হয়েছে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল জন্য অপসারণ মেনে নিয়েছিলাম, আবার পূনবহালের আদেশ মোতাবেক জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছি। আমার সাথে মব ভায়োলেন্স করে দায়িত্বপালনে বাঁধা দেয়ার অপচেষ্টা চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, চেয়ারম্যানের বিষয়টি জেলা প্রশাসকের অধীন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি দায়িত্ব পালন করছেন।