


পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানে বিমান হামলা চালানোর দাবি করেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। তবে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের বাহিনী দক্ষিণাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে চারটি সাধারণ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে এবং কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানি হয়নি।
গতকাল বুধবার আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপমুখপাত্র সিদ্দিকুল্লাহ নুসরাত এক বিবৃতিতে জানান, পাকিস্তানের বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে সক্রিয় আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) আফগান শাখা ইসলামিক স্টেট খোরাসানের (আইএস-কে) ঘাঁটি লক্ষ্য করে এবং তাদের সহযোগীদের আস্তানা লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তাদের বিমান বাহিনী অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই অপারেশন পরিচালনা করেছে। এতে জঙ্গি গোষ্ঠীটির ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো বেসামরিক নাগরিক হতাহত হননি।
তবে কীভাবে এই হামলা চালানো হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করেনি মন্ত্রণালয়। লন্ডন-ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানের কোনো যুদ্ধবিমান নেই ও সম্পূর্ণ কার্যকর বিমান বাহিনীও নেই, তবে তাদের কাছে অন্তত ছয়টি সামরিক বিমান এবং ২৩টি হেলিকপ্টার রয়েছে বলে জানা যায়। এছাড়াও তালেবান বাহিনীর কাছে ছোট ড্রোন রয়েছে, যা পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতে আগেও ব্যবহার করেছে তালেবানরা।
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘এই ঘাঁটিগুলো নির্দিষ্ট কিছু শত্রুভাবাপন্ন গোয়েন্দা চক্রের সহযোগিতায় আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয় ব্যবহৃত হতো এবং বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী হামলার ঘাঁটি হিসেবে কাজ করেছিল।’ এদিকে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ভিন্ন দাবি করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আফগান তালেবান বাহিনী বেলুচিস্তানে সীমান্ত পেরিয়ে চারটি সাধারণ মানের ড্রোন উৎক্ষেপণ করেছিল… তাবে পাকিস্তানের শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে এই ড্রেনিগুলোকে শনাক্ত ও ভূপাতিত করে। এই ঘটনাকে উসকানিমূলক আখ্যা দিয়ে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আফগান তালেবানরা যদি পাকিস্তানকে উস্কানি দিতে থাকে, তবে তারা এর উপযুক্ত জবাব পাবে, যার জন্য তাদের চরম মূল্য দিতে হবে।’
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হামলাটি ছিল মূলত পাকিস্তানের আগের একটি সামরিক অভিযানের সরাসরি পাল্টা জবাব। গত ২৮ জুন রাতে পাকিস্তানের বিমান বাহিনী আফগানিস্তানের ভেতরে কুনার, পাকতিয়া ও পাকতিকা প্রদেশে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) সদস্যদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছিল। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের সেই হামলায় অন্তত ২৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, যা আফগান তালেবান সরকারকে ক্ষুব্ধ করে তোলে।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর প্রথম দিকে পাকিস্তান তাদের সমর্থন করলেও, পরবর্তীতে সীমান্ত দিয়ে সন্ত্রাসী অনুপ্রবেশ ও হামলা বৃদ্ধি পাওয়ায় দুই দেশের দূরত্ব বাড়তে থাকে। পাকিস্তানের অভিযোগ, জঙ্গি গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) আফগানিস্তানের মাটিতে নিরাপদ আশ্রয় পেয়ে সেখান থেকে পাকিস্তানে বড় বড় আত্মঘাতী ও সন্ত্রাসী হামলা চালাচ্ছে। তালেবান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করলেও এনিয়ে ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে বেশ কয়েকদফায় আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ বিভিন্ন প্রদেশে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে আফগান বাহিনী পাল্টা আক্রমণ করে যাচ্ছে।
সূত্র: আলজাজিরা, টোলো নিউজ।