1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
সভ্যতার আঁতুড়ঘরে আদিম বৈষম্য | দৈনিক সকালের বাণী
রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৫৯ অপরাহ্ন

সভ্যতার আঁতুড়ঘরে আদিম বৈষম্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৫ জন দেখেছেন

কয়েক বছর আগেও বর্ণবাদ ও নারীর প্রতি বিদ্বেষমূলক আচরণ ব্রিটিশ সমাজে ছিল অগ্রহণযোগ্য সভ্যতার যে জঠর থেকে সাম্যের বাণী উচ্চারিত হয়েছিল একদিন; আজ সেই আঁতুড়ঘর থেকেই ভেসে আসছে পৃথিবীর হাজার বছরের সেই বিষাক্ত হুংকার— জাতবিদ্বেষ, নারীহিংসা! বহু সাংস্কৃতিক সমাজ ও সমান অধিকারের উদাহরণ হিসেবে পরিচিত ব্রিটেনেই কি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে বর্ণবাদ ও নারীবিদ্বেষ? এমনই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যের নারী ও সমতাবিষয়কমন্ত্রী ব্রিজেট ফিলিপসন। তার মতে, কয়েক বছর আগেও যে ধরনের মন্তব্য ও আচরণ প্রকাশ্যে গ্রহণযোগ্য ছিল না, এখন তা ক্রমেই সমাজের সাধারণ বাস্তবতায় পরিণত হচ্ছে। টেলিগ্রাফ, গার্ডিয়ান।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ফিলিপসন বলেছেন, ‘নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা এবং বর্ণবাদ নিয়ে ব্রিটেন একটি সংকটপূর্ণ সময় পার করছে।’ তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘সমাজ এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে, যেখানে ঘৃণা, বৈষম্য ও লিঙ্গবিদ্বেষকে অনেক ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।’

তার মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোয় ছড়িয়ে পড়া ঘৃণামূলক বক্তব্য ও চরমপন্থী মতাদর্শের কারণে অনেক তরুণ নারীবিদ্বেষী দৃষ্টিভঙ্গির দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এ কারণেই সরকার ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে।

ফিলিপসনের বক্তব্যের সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল বর্ণবাদ নিয়ে তার মন্তব্য। তিনি বলেছেন, ‘তার নিজের পরিবার আয়ারল্যান্ড থেকে ব্রিটেনে এসেছিল। কিন্তু তিনি শ্বেতাঙ্গ হওয়ায় কেউ কখনো তার ব্রিটিশ পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি। অথচ ভিন্ন বর্ণের মানুষের ক্ষেত্রে প্রায়ই জানতে চাওয়া হয়, তারা সত্যিই ব্রিটিশ কি না।’ এ ধরনের আচরণকে তিনি ঘৃণ্য বলে বর্ণনা করেন এবং বললেন, সমাজে বর্ণবাদকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করে তোলা হচ্ছে।

মন্ত্রী সরাসরি কিছু বিরোধী রাজনীতিকের বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন। তিনি কনজারভেটিভ পার্টির শ্যাডো জাস্টিস সেক্রেটারি নিক টিমোথির একটি মন্তব্যের উল্লেখ করলেন, যেখানে ট্রাফালগার স্কয়ারে মুসলমানদের নামাজ আদায়কে ‘আধিপত্য প্রতিষ্ঠার কাজ’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল। ফিলিপসনের মতে, এ ধরনের মন্তব্য শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি অসম্মানজনকই নয়; বরং সমাজে বিভেদ সৃষ্টিতেও ভূমিকা রাখে।

তিনি আরও অভিযোগ করলেন, কিছু রাজনৈতিক বক্তব্য অভিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। তার মতে, রাজনৈতিক স্বার্থে পরিচয়ভিত্তিক বিভাজনকে উসকে দেওয়া হলে তা দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক সম্প্রীতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এদিকে নারীদের নিরাপত্তা নিয়েও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ফিলিপসন। তিনি বলেছেন, বছরের পর বছর ধরে নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনায় পুলিশের প্রতিক্রিয়ায় গুরুতর দুর্বলতা দেখা গেছে। প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন এবং এ বিষয়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ফিলিপসন আরও বলেছেন, কিছুদিন আগেও বর্ণবাদ ও নারীদের প্রতি সহিংস মনোভাবকে সমাজ স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করত। কিন্তু বর্তমানে এসব বিষয়ের প্রতি মানুষের সহনশীলতা বেড়েছে, যা তাকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে। তার মতে, এটি শুধু রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় নয়; বরং ব্রিটিশ সমাজের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত একটি বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ।

বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন, জাতীয় পরিচয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব এবং রাজনৈতিক মেরূকরণ বর্তমানে ব্রিটেনের জনজীবনে বড় প্রভাব ফেলছে। এই প্রেক্ষাপটে ব্রিজেট ফিলিপসনের বক্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে তার সতর্কবার্তা একটি বিষয় পরিষ্কার করে দিয়েছে— বর্ণবাদ ও নারীবিদ্বেষের মতো সমস্যাগুলোকে উপেক্ষা করার সুযোগ আর নেই। সমাজ ও রাজনীতির সব স্তরে এ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা এবং কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )