1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
ছয় কোটি টাকার কৃষিপণ্য কেন্দ্র, ছয় বছর ধরে বন্ধ  | দৈনিক সকালের বাণী
বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৪ অপরাহ্ন

ছয় কোটি টাকার কৃষিপণ্য কেন্দ্র, ছয় বছর ধরে বন্ধ 

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৯ জন দেখেছেন
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ,সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ কেন্দ্র ছয় বছরেও চালু হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ পড়ে থাকায় কেন্দ্রটিতে স্থাপন করা মূল্যবান আধুনিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার পথে। কৃষকের উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাত ও বাজারজাত করে আয় বাড়ানোর লক্ষ্য থাকলেও কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় এর কোনো সুফলই পাচ্ছেন না স্থানীয় কৃষকরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,কুড়িগ্রাম ও জামালপুর জেলার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য হ্রাসকরণ’ প্রকল্পের আওতায় পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), বগুড়া কুড়িগ্রাম ও জামালপুর জেলার আটটি উপজেলায় কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ছিল ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

প্রকল্পের আওতায় কুড়িগ্রামের রাজারহাটসহ আরও কয়েকটি উপজেলায় এসব কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী,প্রতিটি কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ছয় কোটি টাকা।

আরডিএর তথ্য অনুযায়ী,এসব কেন্দ্রে চাল,আটা, মসলা ও অন্যান্য কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের পাশাপাশি দুধ,মাছ ও মাংস সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখার কথা ছিল। রাজারহাট কেন্দ্রটিতে ধান,গম ও সরিষা ভাঙানো,মসলা,চিপস ও বেকারি পণ্য প্রক্রিয়াজাতের সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি দুধ, মাছ ও মাংস সংরক্ষণের জন্য কোল্ড চেম্বারসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

২০২২-২৩ অর্থবছরে কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। পরে প্রয়োজনীয় মেশিনপত্র স্থাপন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কেন্দ্রটি হস্তান্তর করে। তবে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও কেন্দ্রটির কার্যক্রম আর শুরু হয়নি।

কর্তৃপক্ষের দাবি,জনবল সংকট ও পরিচালনা-সংক্রান্ত নীতিমালার জটিলতার কারণে কেন্দ্রটি চালু করা সম্ভব হয়নি। আগের নীতিমালা অনুযায়ী আরডিএর নিজস্ব জনবল দিয়ে কেন্দ্র পরিচালনার কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় কার্যক্রম শুরু করা যায়নি।

এখন নীতিমালা পরিবর্তন করে সমবায়ভিত্তিক সমিতি,এনজিও অথবা আগ্রহী উদ্যোক্তার কাছে টেন্ডারের মাধ্যমে তিন বছর মেয়াদে কেন্দ্রটি লিজ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে সেই প্রক্রিয়া কবে শেষ হবে এবং কবে থেকে কেন্দ্রটি চালু হবে, তার সুনির্দিষ্ট সময়সীমা জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে দেখা যায়,কেন্দ্রটির প্রধান ফটক তালাবদ্ধ। ভেতরে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের আধুনিক মেশিনপত্র। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় এসব যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রটিতে পাহারাদার থাকার কথা থাকলেও সরেজমিনে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ,কৃষকদের সুবিধার কথা বলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে অবকাঠামো নির্মাণ করা হলেও সেটি কাজে না লাগায় পুরো প্রকল্পের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হচ্ছে।

উমর মজিদ ইউনিয়নের কৃষক সালাম মিয়া বলেন,কৃষকদের সুবিধার জন্য এত বড় একটি কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। অথচ বছরের পর বছর ধরে এটি বন্ধ। ভেতরে দামি মেশিনপত্র পড়ে আছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে এসব মেশিন নষ্ট হবে। দ্রুত এটি চালু করে কৃষকদের কাজে লাগানো দরকার।

এ বিষয়ে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা এস এম শওকত আলম বলেন,প্রকল্পটি আমাদের মন্ত্রণালয়ের হলেও প্রকল্পটি সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। এটির ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে দেখব।’

রংপুর পল্লী উন্নয়ন একাডেমির পরিচালক জাহেদুল হক চৌধুরী বলেন,আগের নীতিমালা অনুযায়ী কেন্দ্রগুলো নিজস্ব জনবল দিয়ে পরিচালনার কথা ছিল। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে সেগুলো চালু করা যাচ্ছে না। তাই নীতিমালা পরিবর্তন করে টেন্ডারের মাধ্যমে কেন্দ্রগুলো লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

সরকারি প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য ছিল কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ,প্রক্রিয়াজাত ও বাজারজাতকরণের সুযোগ তৈরি করে তাদের আয় বাড়ানো এবং স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। কিন্তু নির্মাণের পর বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও কেন্দ্রটি চালু না হওয়ায় সরকারের বড় অঙ্কের বিনিয়োগের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী।

স্থানীয়দের আশঙ্কা,দ্রুত কেন্দ্রটি চালু করা না হলে একদিকে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন,অন্যদিকে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকার কারণে মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো নষ্ট হয়ে সরকারি অর্থের অপচয়ের ঝুঁকি আরও বাড়বে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )