


হাফ-হাতা টি-শার্ট, হাতে গ্লাভস নেই, মুখে মাস্কও নেই। তিনি পিঠে বালাইনাশকের জার নিয়ে জমিতে টুপার কীটনাশক স্প্রে করছিলেন মোখছেদুল হক (২৮)। তার বাড়ী দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের হলদিবাড়ি দোলাপাড়া গ্রামে। ওই গ্রামের কৃষক মো: অহিদুল ইসলামের আমন ক্ষেতে ছত্রাক আক্রমণ কীটনাশক স্প্রে করেছেন। পারিশ্রমিক হিসেবে পাবেন জার প্রতি ৩০ টাকা। এ ভাবেই জার পিঠে নিয়ে মোখছেদুল হক ও ছাবিদুল ইসলাম (৩৫) ১১ বিঘা জমিতে স্প্রে কাজ করবেন। পার্বতীপুর উপজেলার বেশির ভাগ কৃষক এসব নিয়ম মানছেন না, মোয়াজেম হোসেন, মনছার আলী ও সবুর মিয়ার মতো কৃষকরা।
স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই কীটনাশক স্প্রে ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে তাদের। অজান্তেই জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা। কোনো ধরনের সুরক্ষা উপকরণ বা ব্যবস্থা ছাড়াই কীটনাশক প্রয়োগ করছেন। মোখছেদুল হক বলেন, কীটনাশক স্প্রে করার ক্ষেত্রে কোনো বিধি নিষেধ আছে বলে তো কখনও শুনিনি। এভাবেই কাজ করছি বছরের পর বছর। খালি হাতে ও মুখ না ঢেকেই স্প্রে করি। মাঝে মধ্যে মাথা ঘোরে, ব্যথা হয়। দোকান থেকে মাথা ব্যথার ওষুধ খেলে সেরে যায় বলে জানান।
ঠিক একইভাবে উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের পান বাজার গ্রামের কৃষক আজগর আলীর ও জাহাঙ্গীর আলমের ভাষ্য, কৃষি অফিসে প্রশিক্ষণে গেলে কীটনাশক স্প্রে করার নিয়ম শিখিয়ে দেয়। কিন্তু মাঠে কাজ করার সময় এসব মনে থাকে না। তাছাড়া হ্যান্ড গ্লাভস, মাস্ক কেনার টাকাও নেই। যদি উপজেলা কৃষি অফিস এসব প্রয়োজনীয় জিনিস সরবরাহ করলে উপজেলার পল্লীর এলাকার নিম্ন আয়ের অনেক কৃষক উপকৃত হতো। একাধিক কৃষকদের দাবী, উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরার্মশ তো দুরের কথা।
অনেক সময় তাদের এলাকায় পাওয়া যায় না। এব্যাপারে পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: রাজিব হোসাইন বলেন, সম্প্রতি এ উপজেলায় গুড এগ্রিকালচার প্র্যাকটিস (জিএপি) শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের নীতিমালা পরামর্শ নিয়ে কাজ করছে। রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহারের সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। শরীরের অন্যান্য অংশে কীটনাশকের অনুপ্রবেশ রোধে প্রতিরোধক ব্যবস্থা থাকতে হবে। বিকেল বেলা জমিতে স্প্রে করতে হবে। সংক্রমন এড়াতে বাতাসের উল্টো দিকে তা প্রয়োগ করা যাবে না। আমরা মাঠ দিবস, বিভিন্ন কনফারেন্স ও অবহিত কর্মশালায় কৃষকদের পরার্মশ দিয়ে থাকি।