


পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় ডাকাতির মামলা দেবীগঞ্জ পৌর যুবদলের নেতা সহ পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথ বাহিনী। বুধবার গভীর রাতে তাদের অভিযান চালিয়ে দেবীগঞ্জ পৌর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি চাইনিজ কুড়াল এবং একটি চেইন স্টিক উদ্ধার করা হয়। এর আগে, গত ১৬ অক্টোবর রাতে অজ্ঞাতদের আসামী করে মামলা করেন মেসার্স সাহা হাসকিং মিলের সত্ত্বাধিকারী নন্দন কুমার সাহা। পরে ডাকাতির করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এদিকে ডাকাতির ঘটনায় আহত হাস্কিং মিলের নৈশপ্রহরী লাবু ইসলাম (৫৫) বৃহস্পতিবার সকালে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, দেবীগঞ্জ পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও বাজারপাড়া এলাকার বাসিন্দা আজিজুল বারী সোহেল (৩৯), উপজেলা শ্রমিক দলের নেতা ও মধ্যপাড়া এলাকার জাকির হোসেন (৩৮), একই এলাকার হৃদয় ইসলাম বেলী (২০), পৌরসভার বডিংপাড়া এলাকার সাজু ইসলাম (২৫) ও তালতলা এলাকার সমির ফকির (৩৫)।
পরে বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেপ্তারকৃতের আদালতে তোলার পরে হৃদয় ইসলাম নিজের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরে আদালত যুবদল নেতা সোহেল, জাকির, সাজু ও সমিরের বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। পরে আগামী সোমবার (২৮ অক্টোবর) শুনানীর দিন ধার্য করে আসামীদের জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।
মামলার এজহার ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ অক্টোবর ( মঙ্গলবার) গভীর রাতে দেবীগঞ্জ পৌর শহরের শাহা পাড়া এলাকায় নন্দন কুমার সাহা নামে এক ব্যাক্তির মেসার্স সাহা হাসকিং মিলে চার থেকে পাঁচ জন মুখোশধারী ব্যাক্তি চাইনিজ কুড়াল সহ ডাকাতির উদ্যেশে মিলে হামলা করে। এসময় মিলের নৈশপ্রহরী আমিনুর রহমান (৫৮) ও লাবু ইসলামের (৫৫) মাথা, কান সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে কিলঘুষি ও আঘাত করে। এসময় তারা অজ্ঞান হয়ে মাটিতেই পড়ে থাকে। পরে মিলের অফিসের দরজা, আলমিরা ও সিন্ধুকের বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায় দূর্বৃত্তরা। পরে বুধবার সকালে (১৬ অক্টোবর) মিলে বেড়াতে যান নন্দন কুমারের ছোট ভাই সুব্রত কুমার সাহা। পরে তিনি মিলের নৈশপ্রহরীদের ডাকতে শুরু করেন। এসময় লাবু মিলের পাশ থেকে আহত অবস্থান উঠে আসেন। পরে কিছুদূরে গিয়ে দেখা যায় মিলের অপর নৈশপ্রহরী আমিনুর রহমান অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছেন।
পরে সুব্রত সাহা বিষয়টি মিল মালিক সহ পরিবারের সদস্যদের জানালে আহতদের উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য লাবুকে রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এদিকে আহত আমিনুর রহমান চিকিৎসা শেষে কয়েকদিন পরেই বাসায় ফেরেন। পরে মিলের মালিক নন্দন কুমার সাহা ১৬ অক্টোবর দুপুরে দেবীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (ডিজি) করেন। তবে আমিনুরের দেয়া তথ্যানুযায়ী ডাকাতির অভিযোগে অজ্ঞাতদের আসামী করে ওইদিন রাতেই একটি মামলা দায়ের করেন মিল মালিক নন্দন। পরে এনিয়ে তদন্তে নামে যৌথ বাহিনী। পরে বুধবার (২৩ অক্টোবর) রাতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে হৃদয় ইসলাম বেলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেয়া তথ্যে আরো চার জনকে গ্রেপ্তার করে যৌথ বাহিনী। পরে তাদের দেবীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়। দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) সোয়েল রানা আসামীদের মধ্যে বেলী আদালতে নিজের দায় স্বীকার করেছে। বাকী আসামীদের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আদালত শুনানির অন্য দিন ধার্য করে আদালতে তাদের প্রেরণ করেন।