1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
দোরগোড়ায় ভোট, কতটা গণতান্ত্রিক যুক্তরাষ্ট্র? | দৈনিক সকালের বাণী
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৫:১১ পূর্বাহ্ন

দোরগোড়ায় ভোট, কতটা গণতান্ত্রিক যুক্তরাষ্ট্র?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : সোমবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৪
  • ১৭৭ জন দেখেছেন
দোরগোড়ায় ভোট যুক্তরাষ্ট্র?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৫ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে, এ নির্বাচনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—যে প্রার্থী সবচেয়ে বেশি ভোট পাবেন, তিনি সরাসরি বিজয়ী হবেন না। এ ধরনের ফলাফল মার্কিন গণতন্ত্রের কিছু বিশেষত্বকে তুলে ধরে, যা নিয়ে দেশের জনগণের মধ্যে নানা প্রশ্ন এবং উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং নির্বাচনী পদ্ধতির এই অদ্ভুততা জনগণের মধ্যে আস্থা সংকট সৃষ্টি করছে এবং এটি আমেরিকার গণতন্ত্রের সত্যিকারের চরিত্রের একটি প্রতিফলন।

 

দীর্ঘকাল ধরে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের গণতন্ত্রকে আদর্শ হিসাবে তুলে ধরেছে, বিশেষ করে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে। গণতন্ত্র পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এটি একটি উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।

 

 

জন এফ কেনেডি থেকে বারাক ওবামা পর্যন্ত সব রাজনৈতিক নেতারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে একটি আলোকবর্তিকা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। ১৯৬১ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে কেনেডি বলেছিলেন, “বিশ্ব এখনও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং এর গণতন্ত্রের দিকে তাকিয়ে আছে।”

২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি, সারা বিশ্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে নজর রাখছিল, যখন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের উসকানিতে ডানপন্থি চরমপন্থিরা ইউএস ক্যাপিটল ভবনে হামলা চালায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল গণতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তরকে বাধা দেওয়া। ২০২৩ সালে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় এপির এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ১০ শতাংশ মানুষ মনে করেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্র ভালভাবে চলছে।

এখন, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশটির গণতন্ত্রের অবস্থা কী?

 

 

ম্যাককোর্টনি ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসির পরিচালক ও পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক মাইকেল বার্কম্যান ডিডাব্লিউকে বলেন, “এখনকার মার্কিন জনগণের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি খুব বেশি আস্থা নেই।”

এছাড়া, প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকানরা ২০২৩ সালের অক্টোবরে কংগ্রেসকে পঙ্গু করে রেখেছিল। জরুরি আইন প্রণয়নের মতো বিষয়গুলোও চলছে ধীরগতিতে। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের গভর্ন্যান্স স্টাডিজের সিনিয়র ফেলো ভ্যানেসা উইলিয়ামসন বলেন, “জনসমর্থন সত্ত্বেও আইন পাস করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।”

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কঠোর মেরুকরণ দেখা যাচ্ছে, যেখানে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যে এক বিশাল দূরত্ব রয়েছে। ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল এবং তারা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। এর ফলে ক্যাপিটল ভবনে হামলা চালানো হয়।

বার্কম্যান বলেন, “৬ জানুয়ারি যা ঘটেছিল, তা গণতন্ত্রের জন্য খুবই ক্ষতিকর।” মার্কিন নির্বাচনে, সর্বাধিক ভোট পাওয়া প্রার্থী অবশ্যই বিজয়ী নয়। ২০১৬ সালে ট্রাম্প নির্বাচনে জিতলেও, তার প্রতিপক্ষ হিলারি ক্লিনটন ২৯ লাখ বেশি ভোট পেয়েছিলেন। এই পরিস্থিতির মূল কারণ হচ্ছে ইলেক্টোরাল কলেজ।

 

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিটি রাজ্যের নির্দিষ্ট সংখ্যক ইলেক্টোরাল কলেজ রয়েছে। একটি রাজ্যে জনপ্রিয় ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠ পেলে, সে রাজ্যের সমস্ত ইলেক্টোরাল কলেজ সেই প্রার্থীর হয়ে যায়। ফলে, একজন প্রার্থী ২৭০টি ইলেক্টোরাল কলেজের ভোট পেলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চ কক্ষ সিনেটের কার্যক্রমও গণতন্ত্রকে প্রতিফলিত করে না। প্রতিটি রাজ্যের জন্য দুজন সিনেটর থাকেন, যা জনসংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এর ফলে, কিছু রাজ্যে একজন সিনেটর কয়েক লাখ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন, আবার অন্য রাজ্যে কোটি মানুষের জন্য একজন সিনেটর থাকতে পারেন।

 

 

বার্কম্যান সিনেটকে “একটি ভীষণ অগণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান” হিসেবে অভিহিত করেছেন। উইলিয়ামসন বলেন, “সিনেটের কাঠামো আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ঠিকভাবে প্রতিফলিত করে না।”

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হয়তো গণতন্ত্রের আদর্শ মডেল নয়, তবে আমেরিকানরা এখনও এই পদ্ধতিতে সম্পৃক্ত রয়েছেন। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৬৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে, যা শতবর্ষের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

বার্কম্যান বলেন, “গত ৮-১০ বছরে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বেড়েছে এবং এটি গুরুত্বপূর্ণ।”

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )