


সারা দেশের মতো চার মাস বেতন-ভাতা ছাড়াই ঋণী হয়ে দিন পার করছেন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার(সিএইচসিপি) গণ। গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতি ওয়ার্ডে গড়ে ওঠা কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত সিএইচসিপিদের জীবন দিন দিন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। এমন বাস্তবতার কাহিনী উঠে এসেছে নীলফামারী জলঢাকা উপজেলায় কর্মরত সিএইচসিপিদের মুখ দিয়ে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, গ্রামীণ জনপদে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের জন্য প্রকল্পের আওতায় কমিউনিটি ক্লিনিক গড়ে তোলা হয়। জলঢাকা উপজেলায় ৪৩টি ক্লিনিক আছে। সেখানে ৪২জন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার ভাইডার(সিএইচসিপি) কর্মরত আছেন।
সরেজমিন, সোমবার ১১নভেম্বর/২০২৪ উপজেলার পৌর এলাকার ৭নং ওয়ার্ডের চেরেঙ্গা ডাকুরডাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিক,ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ডাউয়াবাড়ী কমিউনিটি ক্লিনিক ,একই ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের নেকবক্ত কুটিপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক ও বালাগ্রাম ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে পূর্ব বালাগ্রাম কমিউনিটি ক্লিনিকে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত আগত রোগিদের দৃশ্য চোখে পড়ে।
জ¦র-সর্দি,কাশিতে আক্রান্ত আল আমিন(১০), শরীর দুর্বলতা-গ্যাস্ট্রিক নিয়ে হাবিব(২৫) ও আমাশয়-ডায়রিয়া রোগ নিয়ে আসা মহেলা খাতুন(৬৫) জানান, আমরা গ্রাম পর্যায়ে পাঁচ টাকা ফি দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছি। এতে একদিকে আমাদের যেমন আর্থিক ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে। অপরদিকে দুর্ভোগ কমেছে, সময়ও বাচছে। আগে প্রাথমিক চিকিৎসার সব ঔষধ মিলতো। এখন পাওয়া যায় না। এখন ক্লিনিকে আসলে প্রায় ঔষধ সংকট শোনা যায়। তবে ক্লিনিকে দায়িত্বরতরা বলেছেন আগে ২৭ দফার ঔষধ সরবরাহ ছিল। বর্তমানে যা ২০ দফায় নেমে এসেছে। আগে এন্টিবায়টিক সরবরাহ ছিল। এখন নাকি কোন এন্টিবায়টিক সরবরাহ করা হয় না।
সোমবার দুপুর পর্যন্ত ডাকুরডাঙ্গা ক্লিনিকে সাধারণ ১১জন,গর্ভবতী ০১জন ও শিশু ০২জন রোগি আসে।
গত অক্টোবর/২০২৪ মাসে ওই ক্লিনিকে চার’শ ৭৮জন রোগি সেবা নিয়েছেন বলে জানান কর্মরত সিএইচসিপি মাহবুবা আক্তার মীম। অপরদিকে নেকবক্ত কুটিপাড়া ক্লিনিকে সাধারণ ০৯জন,গর্ভবতী ০১ জন ও শিশু ০২জন রোগি আসেন। অক্টোবরে সেখানে ছয়’শ ১৬ জন রোগি সেবা নিয়েছেন জানান কর্মরত সিএইচসিপি আতিকুর রহমান।
পূর্ব বালাগ্রাম কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি খালেদা বেগম জানান, সাধারণ ২৮জন,শিশু ০৬ জন ও ৪জন গর্ভবতী রোগি আসেন। অক্টোবর মাসে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছিল ৫৭৩ জন রোগিকে। এছাড়া প্রায় দুর্গম এলাকায় ডাউয়াবাড়ী কমিউনিটি ক্লিনিক। একই দিনে সাধারণ ৯১ জন,গর্ভবতী ০২জন ও শিশু ১৮জন চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। এবং অক্টোবর মাসে ৬৬১জন সেবা নিয়েছেন বলে জানান সেখানে কর্মরত সিএইচসিপি মঞ্জুরুল ইসলাম।
সিএইচসিপি খালেদা,মাহবুবা ও আতিকুর জানান, আমাদেরকে নিয়োগের পর বিভিন্ন রোগ সহ চিকিৎসায় ঔষধ প্রয়োগ বিষয়ে তিন মাসের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ বা ধারণা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেই প্রশিক্ষণে উপর ভিত্তি করে আমরা শুক্রবার ও ছুটির দিন বাদে সকাল নয়টা হতে বিকাল তিনটা পর্যন্ত চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকি। কতজন রোগি চিকিৎসা সেবা নিয়েছে তা আমাদেরকে ঢাকায় দৈনিক রিপোর্ট প্রেরণ করতে হয়।
তারা আরও জানান, প্রথম দিকে আমাদেরকে ২৭ দফা ঔষধ সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে ২০ দফা ঔষধ সরবরাহ করা হচ্ছে। আগে এন্টিবায়টিক সরবরাহ দেওয়া হলেও এখন আর সরবরাহ করা হয়না। আমাদের চাকুরী জাতীয়করণ করা হবে এমনটা শুনেছি। এখন জাতীয়করণ তো দুরের কথা আমরা চলতি বছরের জুলাই থেকে দীর্ঘ চার মাস বেতন পাচ্ছি না। এতে আমাদেরকে ধার দেনা করে দুর্বিসহ দিন পার করতে হচ্ছে। আমরা জাতীর সুস্থতা কামনা করতে করতে নিজেই অভাব অনটনে উপবাসের দিকে ধাবিত হবার পথে। এমন দুর্বিষহ দিন পরিত্রাণ করতে আমরা প্রধান উপদেষ্টা সহ সকলের আন্তরিক সহযোগিতা চাই।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানুল কবির বলেন, তারা এখনও প্রকল্পের আওতায় আছে। এছাড়া তারা ঠিক মতো বেতন পাচ্ছেন না। অনিয়মিত বেতন পাওয়ায় কাজে মনোবল হারাচ্ছেন তারা।