


প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০ যমজ শিশু পড়াশোনার খবরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাদেরকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। তাদেরকে নিয়ে সারাক্ষণ ওই স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা আনন্দে উল্লাসে থাকেন। তবে দেখতে একই রকম হওয়ায় তাদের চিনতে অনেক সময় বিপাকে পড়েন শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। তারপরও সবাইকে একই পরিবারের সদস্য মনে করেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই স্কুলে পড়ছে ৬০৭ শিশু। শিক্ষক আছেন ১৩ জন। রংপুর জেলায় বারবার ভালো ফলাফলের সুনাম থাকায় অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের এখানে ভর্তি করানোর ব্যাপারে বেশ আগ্রহী। দিন দিন এই স্কুলের শিক্ষার্থী বেড়েই যাচ্ছে।
এক প্রতিষ্ঠানে অনেক যমজ শিশু পড়াশোনা করায় গত সোমবার ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে যান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিক উজ জামান। তিনি যমজ শিশুদের বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে ডেকে একখানে করে হাতে হাতে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। সেই সাথে অভিভাবকদের ডেকে বিভিন্ন সুপরামর্শ দেন।
কথা হয় ওই স্কুলের অভিভাবক ও মিতা সিনেমা হল রোডের দিলদার আলী ও রেশমা আক্তারের সাথে। রেশমা আক্তার জানান, বদরগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওই স্কুলে আমার এর আগেও ২ জন জমজ শিশু পড়াশোনা করেছে। তারা এখন চেতনা বিদ্যানিকেতনে পড়াশোনা করছে। আবারো রুকু ও রিভা দুই জমজ শিশু পড়াশুনা করছে । তাই নিয়মিত স্কুলে আসতে হয়। শিশুদের নিজেদের মধ্যে মেলবন্ধন ও চলাফেরা দেখে ভালোই লাগে।
তিনি আরো জানান, বিশেষ করে এই স্কুলে ২০ জন শিশু দেখে আমি নিজেকে ধন্য মনে করি। কারণ ওই স্কুলে এর আগেও আমার দুই জমজ শিশু পড়াশুনা করছে। আবারোও দুজন পড়ছে। তাই অন্যান্য জন শিশুদের আমার নিজের শিশুই মনে হয়।
শিশু শ্রেণীর জমজ দুই শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ ওআব্দুর রহমানের মা মোস্তফাপুর গ্রামের বৃষ্টি আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন এই স্কুলে যাওয়া আসা করছি দুই শিশুকে নিয়ে। তাদের চাওয়া পাওয়া সব একই রকম। একজন স্কুলে না আসলে আরেকজন আসতে চায় না। একজন তাড়াতাড়ি যেতে চাইলে আর একজন আর অপেক্ষা করতে চায় না। সেক্ষেত্রে বাচ্চাদের নিয়ে ঝামেলা পোহাতে হয় না। আমরা সবকিছু মেনে নেই।
আর এক জামাত শিশুঐশী ও ইমনের বাবা দুর্জয় রায় জানান, নিয়মিত বাচ্চাদের নিয়ে যাওয়া আসা করতে হয়। সেক্ষেত্রে আমি অথবা আমার স্ত্রী দুজনেই নিয়ে যাওয়া আশা করি। কোন ধরনের সমস্যা মনে হয়নি। বরং এখানকার শিক্ষকরা একাধিক জমজ শিশুদের শিক্ষা দিয়ে অভ্যস্ত হয়েছে। তারা সব শিশুদের একই চোখে দেখে এটিই আমাদের ভালোলাগা।
বদরগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণীর শিক্ষিকা অনিতা রানী বলেন, দীর্ঘদিন এমন অনেক জমজ শিশুকে শিক্ষা দিয়ে এসেছি। ক্লাসে তাদের আচরণ দুজনেরই একই রকম হয়। বাথরুমে কেউ একজন যেতে চাইলে অন্যজনও যেতে চায়। তবে এই সুবিধা গুলো আমরা দিয়ে থাকি। যেহেতু আমরা বুঝতে পারি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মইনুল ইসলাম শাহ জানান, আমি এটার জন্য গর্বিত যে বাচ্চাদের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে না পাঠিয়ে আমার এখানে পাঠায় এবং প্রতিদিন মায়েদের সাথে একজন শিশুর জন্য একজন মা তৎপর থাকেলেও কিন্তু জমজ শিশুর জন্য তাদের মায়েরা অনেক বেশি তৎপর।
ওই শিশুদের মায়েরা স্কুলে আসার কারণে বিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখে। মায়েরা স্কুলে আসলে তাদের শিশুদের ভালো-মন্দ সরাসরি তাদের অগ্রগতি তাদের কাছে জানানো যায়। ফলে শিশুদের ভালো-মন্দ তাদেরকে জানানো যায়।
তিনি আরো বলেন, আমার এখানে প্রতিদিনই ১০০ এর অধিক মা আসে। তাদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত আমার যোগাযোগ হয়। আমি ৭ই জুন ২০০৯ সালে স্কুলে জয়েন করার পর থেকে প্রতিবারই প্রথম হয়ে আসছি। বদরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিক উজ-জামান বলেন, ভেবেছিলাম যে সাধারণ শিশুদের মত এরা যেন ভালো থাকে। আলাদাভাবে দেখতে গিয়ে বৈষম্যটা যেন না আসে। সেই সাথে এদের দিকে যেন বিশেষ নজর রাখা হয়। শিশুদের ব্যাপারে বাবা-মার তরফ থেকে কোন পরামর্শ থাকলে শিক্ষকরা যেন সেটি দেখে। এটি ছিল ওই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।